×

শেষের পাতা

তারল্য সংকটে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক

আমানতকারীদের অর্থ দিতে পারছে না

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : চরম তারল্য সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংকটি। অন্যদিকে ব্যাংকটির কাছে মানসম্পন্ন সিকিউরিটিজ না থাকায় তারল্য সহায়তায় সাড়া দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত সপ্তাহে ব্যাংকটির মৌলভীবাজার শাখার গ্রাহক মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ছড়াকার কবি আব্দুল হামিদ মাহবুব টাকা তুলতে গেলে তাকে কোনো টাকা দেয়া হয়নি। ওই শাখায় তার এক লাখ টাকা জমা রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালের দিকে ওই ব্যাংকে নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য চেক নিয়ে গেলে তাকে টাকা না দিয়েই ফিরিয়ে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারণ হিসেবে জানান- ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তিনি ওই চেকের ছবি দিয়ে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন শাখায় এক গ্রাহক ২ লাখ টাকার চেক নিয়ে গেলে তাকে খালি হাতেই ফিরতে হয়। যদিও শাখা ম্যানেজার আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা টাকা তুলতে পারবেন।

গতকাল রবিবার আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় টাকা তুলতে যান গ্রাহক শীবলি মাহমুদ। তিনি বলেন, এই ব্যাংকে দুই বছর আগে ৩ লাখ টাকা রেখেছিলাম। হঠাৎ শুনছি ব্যাংকটি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। তাই আমি গত ১৫ দিন আগে এসেছিলাম টাকা তুলতে। ব্যাংক থেকে বলা হয়েছিল কয়েকদিন পরে আসার জন্য। এরপর আজকে (গতকাল) আবার এসেছি। তবে ব্যাংকটির এই শাখা থেকে টাকা দিতে পারছে না, শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। একই পরিস্থিতি ঢাকার পল্টন ও কারওয়ান বাজার শাখায়ও। শাখা দুটিতে টাকা তোলার জন্য আসা আমানতকারীদের খালি হাতেই ফেরত যেতে হচ্ছে। জানা গেছে, চরম তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকটি গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জামানতমুক্ত তারল্য সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি টাকা চেয়েছিল। তবে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৪২৫ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। ফলে নতুন করে তারল্য সহায়তার আবেদনে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি ও ডিওএস ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানান, মূলধনের ঘাটতি, উচ্চ খেলাপি আর তারল্য সংকটে পদ্ধতিগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল পর্যায়ে চলে এসেছে। ব্যাংকটির কাছে এমন কোনো জামানত নেই, যার বিপরীতে অন্য ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নগদ অর্থ ধার করতে পারবে। কর্মীদের বেতনও ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হচ্ছে ব্যাংকটিতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক সম্পর্কে আমরা অবগত। ব্যাংকটির তহবিলের বড় অংশ কিছু লিজিং কোম্পানির কাছে আটকে আছে। এতে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়ান শেয়ারহোল্ডারকে নতুন করে তহবিল দিতে বলেছি আমরা। ব্যাংকটির কাছে কোনো মানসম্পন্ন সিকিউরিটিজ না থাকায় তারল্য সহায়তায় তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও আমানতকারীরা যেন তাদের টাকা ফেরত পান, তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App