×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

অর্থনীতি সমিতির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

কীভাবে মানুষের উপকার হবে, এটুকু বুঝি

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কীভাবে মানুষের উপকার  হবে, এটুকু বুঝি
কাগজ প্রতিবেদক : নতুন অর্থবছরের ৬ জুন ঘোষণা করা হবে জানিয়ে সেই বাজেট বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতাকে কীভাবে নিষ্কন্টক করবে, মানুষের ভোট চুরি আর ক্ষমতাকে ভোগ করা- এসব তারা ভালো বুঝত। গতকাল শুক্রবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২২তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশি-বিদেশি নানা কারণে জিডিপি কিছুটা হয়ত কমবে, সেটা পরবর্তী সময়ে উত্তরণ করতে পারব, সে আত্মবিশ্বাসও আছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামের অর্থনীতি পাল্টে গেছে। যারা একবেলা ভাত খেতে পারত না, চার বেলা খায়। হাটবারের বাইরে কিছু পাওয়া যেত না, এখন সুপার মার্কেট হয়েছে। আমাদের গ্রামের বাজার পাটগাতি থেকে ঈদের আগে ২০০ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি যত বেশি মজবুত হচ্ছে, শিল্প কলকারখানা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে অর্থনীতি সমিতির প্রোগ্রামে এসেছি। এখানে অনেকের অনেক বড় বড় ডিগ্রি আছে। আমার কিন্তু তা নেই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছি। অর্থনীতির সূ² ও জটিল বিষয়াদি আপনাদের মতো আমি বুঝি না। এতটুকু বুঝি কীভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়। কীভাবে মানুষের উপকার হবে। তিনি বলেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই আমি এটা শেখেছি। তিনি তো বেশির ভাগ সময়ই জেলে থাকতেন। যতক্ষণ বাইরে থাকতেন, আমাদের সঙ্গে গল্প করতেন- কীভাবে তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান, কীভাবে গ্রামগুলোকে সাজাবেন। সরকারপ্রধান বলেন, মিলিটারি সরকার যখন আসে তখন দুর্নীতি তাদের নীতি হয়ে যায়। পীড়াপীড়ি কালচার কিন্তু মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান থেকে শুরু। কিছু এলিট শ্রেণি তৈরি করা, তাদের কিছু সুযোগ দিয়ে দেয়া, তারা জানত যে লোন নিলে তো সব দিতে হবে না, মাফ হয়ে যাবে। এই চিন্তা-ভাবনায় আমাদের দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আমরা আসার পর সে জায়গা থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। অনেকটাই সফল হয়েছি। তিনি বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। চেয়েছিলেন এদেশে মানুষ অন্তত দুই বেলা দুই মুঠো খেয়ে বাঁচবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। উন্নত জীবন পাবে, এটাই ছিল তার স্বপ্ন। শেখ হাসিনা বলেন, ছিয়াত্তর সালে খুনি মোশতাকরা যখন ক্ষমতা দখল করে এরপর থেকে মাথাপিছু আয় ক্রমাগত কমেছে। ছিয়াত্তর থেকে একানব্বই পর্যন্ত মাত্র ৬ ডলার বেড়েছিল। জাতির পিতা যদি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ৯৭ ডলার থেকে শুরু করে ২৭৭ ডলারে উন্নতি করতে পারেন, তাহলে কেন কমে গেল মাথাপিছু আয়? তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদের মানুষের কাছে একটা ওয়াদা থাকে, একটা পরিকল্পনা থাকে দেশকে নিয়ে, এই দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব। যদি কোনো পরিকল্পনা না থাকে তাহলে সে দেশ এগোতে পারে না। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মানুষ কী পেল, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে, যা আমি শিখেছিলাম আমার বাবার কাছ থেকে। সরকারপ্রধান বলেন, পঁচাত্তরের পর গবেষণা ছিল না। মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায়, ক্ষমতাকে কীভাবে নিষ্কন্টক করবে, মানুষের ভোট চুরি আর ক্ষমতাকে ভোগ করা, ভোগ করাকে তারা ভালো বুঝত। প্যারিস থেকে কী আসবে, ইতালি থেকে কী আসবে, এগুলো নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের একই খেলায় আমরা দেখি। এক মিলিটারি ডিক্টেটর গিয়ে যখন আরেক মিলিটারি ডিক্টেটর এলো, সে আবার কোন রাজাবাড়ি, কোন শোফার দেখল, সেটি নিয়ে ব্যস্ত। এই ছিল বাংলাদেশের অবস্থা। কোনো বিদেশি পরামর্শে নয়, দেশের মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা ও নীতিমালা করার পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি অর্থনীতিবিদদের কাছে এটাই বলতে চাই, দেশের মাটি-মানুষ তাদের কথা চিন্তা করে আপনাদের নীতিমালা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কেউ একজন দুয়েকদিনের জন্য দেশে এসে আমাদেরকে উপদেশ দিয়ে যাবে, ওই উপদেশ আমাদের কাজে লাগবে না। কাজে লাগবে নিজের চোখে দেখা এবং মানুষের জন্য করা। তবে হ্যাঁ বাইরে থেকে আমরা শিখব, করার জন্য নিজের দেশ ও মানুষকে দেখে করব। আমাদের কী সম্পদ আছে সেটা দেখে করব। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে হবে। বেসরকারি খাত যত বেশি গড়ে উঠবে, তত বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেই পদক্ষেপটি আমরা নিয়েছিলাম। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদন করা, রপ্তানিকে বহুমুখীকরণ করা, সেদিক থেকেও আমরা আমাদের অনেক কিছু করার আছে। আমি অর্থনীতিবিদদের কাছে চাইব, আমাদের আর কি কি পণ্য যেগুলো রপ্তানিমুখী করা যায়। প্রত্যেকটা রাষ্ট্রদূতকে নির্দেশনা দিয়েছে কোন দেশে কোন জিনিসের চাহিদা আছে সেগুলো খুঁজে বের করা। এগুলো যাতে আমরা উৎপাদন করে রপ্তানি করতে পারি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আমাদের গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তর করার জন্য ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ তার নাগরিক সুবিধার সবকিছু সেখানে বসেই পাবে, আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ করব। আমরা সেটি করেছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই কানেকশন পৌঁছে দিয়েছি। সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে গবেষণায় জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্লæ ইকোনমিকে আমাদের অর্থনীতির কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট আমি করে দিয়েছি। এটা নিয়ে গবেষণা হবে। তৃণমূল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য রেখে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যে শিল্পায়ন করতে চাই, সেখানে আমরা সুবিধা দিচ্ছি। আমাদের শুধু রপ্তানি করা না, নিজেদের বাজার তৈরি করতে হবে। এজন্য আমার মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে গেলে কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি সেখান থেকে বিনা জামানতে যে কোনো যুবক দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেই চাকরি দিতে পারবে সেভাবে যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে সরকার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App