×

শেষের পাতা

এমভি আব্দুল্লাহর নাবিক রাজুর সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো

চোখ খুলেই দেখতাম অস্ত্র তাক করা

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চোখ খুলেই দেখতাম অস্ত্র তাক করা
নোয়াখালী প্রতিনিধি : রাতে আমরা বিজে ঘুমাতাম। যখন কোনো নেভি শিপ যেত, তখন জলদস্যুরা আরো সতর্ক হয়ে যেত। তারা তখন আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করে রাখত। যার কারণে নেভি শিপ গেলে আমাদের আরো সমস্যা হতো। ট্রিগার টেনে অস্ত্র তাক করতো আমাদের দিকে। সব চেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, ঘুম থেকে চোখ খুলেই দেখতাম আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করা। গতকাল বুধবার দুপুরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া জাহাজ এমবি আব্দুল্লাহর নাবিক আনোয়ারুল হক রাজু এসব কথা বলেন। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আজিজুল হক মাস্টারের সন্তান। জিম্মি থাকা ৩৩ দিনের স্মৃতিচারণ করে রাজু বলেন, ওরা যখন জানতে পারে আমরা মুসলিম, তখন আমরা কিছুটা ছাড় পেয়েছি। মুসলিম হিসেবে ঈদের দিন ওরা আমাদের ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়েছে। ঈদের দিন জলদস্যুরা ইঙ্গিত দেয় যে, দুই এক দিনের মধ্যে আমাদের মুক্তিপণ আসবে। এরপরই মুক্তি মিলবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাজু বলেন, মুক্তিপণ কত দিয়েছিল এটা শুধু কোম্পানি আর বাংলাদেশ সরকার জানে। এছাড়া আর কেউ জানে না। তবে আমরা বড় বড় তিনটি ব্যাগ উপর থেকে জাহাজে পড়তে দেখেছি। ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের নাবিক রাজু প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরেন। তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাড়ে ৫ মাসের বেশি সময় পর রাজুকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা-বাবা। কেউ কেউ খুশিতে কাঁদতে থাকেন। এখন পরিবারে বইছে উৎসবের আমেজ। নাবিকদের দ্রুত মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাবিকের স্বজনরা। ছেলের ফিরে আসার দিনক্ষণ আগেই জানা ছিল মা-বাবার। রাজুর বন্ধুরা চট্টগ্রাম থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ সময় ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন মা-বাবাসহ স্বজনরা। এতে অবসান ঘটে এক দীর্ঘ উৎকণ্ঠার। একই সঙ্গে পরিবারে লাগে উৎসবের আমেজ। সুস্থভাবে বাড়িতে ফিরতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন রাজু। ছেলের ফিরে আসায় মা রেঁধেছেন তার পছন্দের গরুর মাংস ও সামুদ্রিক মাছ। নাবিক জয়ের পরিবারে আনন্দের বন্যা : নাটোর থেকে কাগজ প্রতিবেদক জানান, ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজসহ ২৩ নাবিক ও ক্রু জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছে। নাটোরের জয় মাহমুদও আটক ছিলেন এই জিম্মিদশায়। তিনিও মুক্ত হয়ে বাবা-মার কাছে ফিরে এসেছেন। এতে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। জিম্মিদশায় স্বজনদের সময় পার হয়েছে আতঙ্গ ও দুশ্চিন্তায়। জয় বাড়ি ফিরে আসায় বাবা-মার মধ্যে খুশি ও আনন্দ। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জয় মাহমুদ। জয়ের স্বপ্ন ছিল সুন্দর জীবন গড়বেন। স্বপ্ন পূরণে জাহাজের নাবিকের চাকরি নেন। তবে আচমকা ঝড় এসে এলোমেলো করে দেয় সবকিছু। গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী একটি জাহাজের নাবিক জয় মাহমুদসহ ২৩ নাবিক ও ক্রুকে জিম্মি করে সোমালিয় জলদস্যুরা। জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন জয়সহ ২৩ নাবিক ও ক্রু। অবশেষে গত মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজটি ভিড়লে নাবিক ও ক্রুরা জাহাজ থেকে নেমে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেন। সবাই ফিরে গেছেন নিজ নিজ বাড়িতে। গত মঙ্গলবার রাতে সবার মতো জয়ও ফিরে এসেছেন নিজের বাড়িতে বাবা-মার কাছে। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত জয় মাহম্মুদ বলেন, যেদিন জল দস্যুদের হাতে আটক হয়েছিলেন, সেদিন মাথার ওপর যেন ছাদ ভেঙে পড়েছিল। শুধু কান্নকাটি করছিলাম সবাই। মনে হচ্ছিল দেশে জীবিত ফিরতে পারব কি না। তারা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। শুধু আতঙ্কে সময় কেটেছে। ঈদে নামাজ পড়লেও কোনো আনন্দ করতে পারেননি। মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসায় খুব আনন্দ হচ্ছে। জয়ের মা আরিফা বেগম ও বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ছেলে যখন জলদস্যুদের হাতে আটক ছিল, তখন খুব কষ্টে দিন কেটেছে। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেছেন তাদের ছেলেসহ সবাই যেন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে। ছেলে মুক্ত হয়ে কাছে ফিরে আসায় তারা ভীষণ খুশি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App