×

শেষের পাতা

গোপালগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতা

গুলিতে যুবক নিহত, লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো পাঁচজন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার নিহত মো. ওয়াসিকুর রহমান ভূঁইয়ার লাশ নিয়ে দুই ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা সড়কের উপর টায়ার জ¦ালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। নিহত ওসিকুর ভূঁইয়া (২৮) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের জলিল ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে চা বিক্রেতা ছিলেন। ওসিকুর সদ্য সমাপ্ত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থক ছিলেন। হামলাকারীরা বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত আলীর সমর্থক জাকির বিশ্বাসের ছেলে পরশ বিশ্বাস (১৯) মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ নিয়ে কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থক একই গ্রামের কালু ভূঁইয়ার ছেলে দ্বীপ ভূঁইয়া ও হিদু ভূঁইয়ার ছেলে সিমন ভূঁইয়ার সঙ্গে পরশ বিশ্বাসের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা দুজন পরশ বিশ্বাসকে চড়থাপ্পড় মারেন। খবর পেয়ে বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থকেরা সংগঠিত হয়ে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থকদের দিকে ধেঁয়ে আসে। এ সময় কামরুজ্জামানের সমর্থকদের ছোড়া গুলিতে লিয়াকত আলীর সমর্থক ওসিকুর ভুইয়া (২৭), হাকিম খন্দকার (১৭), মেহেদি বিশ্বাস (১৭) ও লিমন ভূঁইয়াসহ (২১) পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক জুয়েল সরকার ওসিকুর ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আহতদের মধ্যে লিমন ভূঁইয়াকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৪ জন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি এবং কোনো গ্রেপ্তার নেই। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চন্দ্রদিঘলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। চা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় একপক্ষ গুলি চালালে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে ওসিকুর রহমান ভূঁইয়াকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের হাজার হাজার লোক জেলা শহরে বুধবার দুপুরে নিহত যুবকের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শোক র‌্যালি করে। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর গোপালগঞ্জ শহরের চেচানিয়াকান্দি এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনগণ। এই অবরোধ চলে টানা দুই ঘণ্টা। পরে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহাবুবুল আলম ও পুলিশ সুপার আল বেলী আফিফা অসিকুর হত্যার বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ ছেড়ে দেয় অবরোধকারীরা। যানবাহন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App