×

শেষের পাতা

জাবি ছাত্রীকে হেনস্তা

মৌমিতার ১৬ বাস আটকে রেখেছে শিক্ষার্থীরা

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাবি প্রতিনিধি : ঢাকা-সাভারগামী মৌমিতা পরিবহনের বাসের হেল্পার কর্তৃক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটকে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত মঙ্গলবার সাভার থেকে টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় এই হেনস্তার শিকার হন ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় বুধবার প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগপত্র সূত্রে ওই ছাত্রী বলেন, মঙ্গলবার ব্যাংক টাউন থেকে টিউশনি শেষে মৌমিতা বাসে করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে আসার পথে হেল্পার ভাড়া চাইলে আমি টাকা দেই। তার কাছে ভাংতি নেই বলে পরে বাকি টাকা ফেরত দিতে চায়। কিন্তু বাস রেডিও কলোনির কাছাকাছি আসার পর হেল্পার জানায় বাস আর সামনে যাবে না। তখন বাসের যাত্রীরা সবাই নেমে চলে যায়। হেল্পারের কছে বাকি টাকা ফেরত চাইলে সে বলে ‘আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাই।’ ভুক্তভোগী জানান, তখন বাসে মাত্র তিনজন লোক ছিল। বাসের চালক, হেল্পার এবং তাদের পরিচিত একজন। ঢাকা নিয়ে যাবে বলেই তারা ভুক্তভোগীকে বাজেভাবে ইঙ্গিত দেয়। এতে তিনি খুব ভয় পেয়ে যান। তখনই তাড়াহুড়ো করে বাস থেকে নামতে চেষ্টা করলে বাস ছেড়ে দেয়। তখন কিছু না ভেবে বাস থেকে লাফ দিলে হাঁটুতে ব্যথা পান ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে ব্যাচমেটদের বিষয়টি জানান তিনি। পরে তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনার জেরে গতকাল বুধবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগরগামী রুটে মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটক করে শিক্ষার্থীরা। তবে আটক বাসের চালক ও হেল্পারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন বাস কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বন্ধু ও প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, আমাদের বান্ধবীর সঙ্গে যে খারাপ ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদে আমরা মৌমিতা পরিবহনের বাস আটকে রেখেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আশুলিয়া থানাপুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সব সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৬টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। আটক একটি বাসের চালক মোজাম্মেল ও হেল্পার বাবলু বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আমাদের বাসগুলো ছাত্ররা আটক করে। ঘটনা আমরা জানতাম না। ছাত্ররা বাস আটকে আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। তখন আমরা বলি, আপনারা বাস আটকান সমস্যা নেই। বাস মালিকের সম্পত্তি, কিন্তু ফোন তো আমাদের পার্সোনাল জিনিস। ফোন না দেয়ায় আমাকে চার-পাঁচটি চড় মেরে ফোন ছিনিয়ে নেয় ছাত্ররা। সহকারী প্রক্টর মনির উদ্দিন শিকদার বলেন, আমরা আশুলিয়া থানার পুলিশসহ ছাত্রদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু সিসিটিভি দেখে কোনো ঘটনা শনাক্ত করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলা করবেন। ঘটনা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলো এখানেই থাকবে। তবে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তেজিত অবস্থায় ছাত্ররা এ কাজ করেছে। পরে আমি উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে মোবাইলগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির বলেন, ছাত্রদের নিয়ে ও আশুলিয়া থানার পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা কিছু শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা বাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি দ্রুত ওই বাসের হেল্পার ও চালককে শনাক্ত করে আমাদের জানাতে। পুলিশ ও চেষ্টা করতেছে তাদের শনাক্ত করার জন্য।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App