×

শেষের পাতা

বিএনপিএসের প্রাক-বাজেট আলোচনা

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ১১ দফা সুপারিশ

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ১১ দফা সুপারিশ
কাগজ প্রতিবেদক : নারী উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা ও উদ্যোগের কোনো কমতি নেই। তবে বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও যে প্রক্রিয়ায় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক হচ্ছে কিনা এ প্রশ্ন থেকেই যায়। সরকার জেন্ডারবান্ধব বাজেট করলেও বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পর্যালোচনা বা সমীক্ষা পাওয়া যায় না। বাজেট বরাদ্দের কতটুকু নারীর জীবনের কোন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো, পর্যবেক্ষণের অভাবে সে বিষয়েও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আসন্ন জাতীয় বাজেটে ১১টি সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫ : নারী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপিএসের পরিচালক শাহনাজ সুমী। অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর জেন্ডার সংবেদনশীল প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও কম বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দের পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের সময় সে বরাদ্দ নারী উন্নয়ন নীতির কর্মকৌশল অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তার কোনো খতিয়ান আমরা দেখতে পাই না। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রমগুলো কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি বছর তৈরি ও জনসমক্ষে পেশ করতে হবে। রোকেয়া কবীর বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই নারী; যাদের সিংহভাগই সম্পদহীন, ক্ষমতাহীন এবং উপার্জনের সুযোগ বঞ্চিত ও পরনির্ভরশীল, তাদের দিকে ন্যায়সম্পন্ন ও কার্যকরভাবে সম্পদপ্রবাহ বাড়াতে হবে। আমরা লক্ষ্য করছি, গত কয়েক বছরের বাজেটে নারীদের বড় আকারের ঋণ সুবিধা দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু একজন নারীকে বড় আকারে ঋণ নিতে হলে সম্পদ বন্ধক দিতে হয়। যার উত্তরাধিকারে সমান অধিকার নেই, তিনি কীভাবে সম্পদ বন্ধক রাখবেন? সম্পদ বন্ধক ছাড়া নারীদের ঋণ দেয়ার নিয়ম চালু করতে হবে। এজন্য উত্তরাধিকার আইনে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া ছাড়াও খাস জমি বণ্টনে নারীদের ক্ষেত্রে শর্তবিহীন বণ্টন নিশ্চিত করা দরকার। নারী প্রগতি সংঘের ১১টি সুপারিশ হলো : বরাদ্দকৃত বাজেটের মাধ্যমে নারীর জীবনের কোন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো, সে বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় উত্থাপন করা; মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রমগুলো কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি বছর তৈরি ও জনসমক্ষে পেশ করা; নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নেয়া কৌশলগুলো কতটুকু জেন্ডার চাহিদা পূরণ করছে এবং অগ্রগতি কতটুকু সে বিষয়ক সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি গুণগত বিশ্লেষণের পরিমাপক নির্ধারণ করা; প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জেন্ডার বাজেট বিষয়ে ধারণাগত স্পষ্টতা এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট ফোকাল পয়েন্টদের তথ্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা; লিড মন্ত্রণালয় হিসেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট বিষয়ে ধারণাগত এবং মনিটরিং দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা; সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জেন্ডার ও জেন্ডার বাজেট বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের সেবাদানের দক্ষতাকে বাৎসরিক কর্ম মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত করা; নারীর জন্য জামানতমুক্ত ঋণ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন আনা; গৃহস্থালি কাজে নারীর শারীরিক শ্রম লাঘব করার জন্য গৃহস্থালি সরঞ্জামাদির দাম কমানো এবং নারীর কর্মভার লাঘব করার উদ্যোগ নেয়া; সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য সেবা বাড়ানো বিশেষ করে আইনি সহায়তা প্রদান, শেল্টার হোম তৈরি করা এবং সেখানে রেখে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া; জেন্ডার বাজেটবিষয়ক গবেষণার উদ্যোগ নেয়া, বিশেষ করে বিআইডিএসসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেন্ডার বাজেট বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেয়া।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App