×

শেষের পাতা

৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিক

নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করব

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করব
কাগজ প্রতিবেদক : সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়তে নগরবাসীকে দেয়া সব প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চার বছর পূর্তিতে তিনি নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আমার প্রতি নগরবাসীর আস্থা-বিশ্বাসই আমার কাজের শক্তি। ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক কাজ করে যাব। গত চার বছরের সবটুকু প্রাপ্তি নগরবাসীর, আর ব্যর্থতাগুলো কেবলই আমার। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৪ বছর পূর্তিতে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এ নগর ভবনের প্রধান কার্যালয়ের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় মেয়র আতিক তার দায়িত্ব গ্রহণের ৪ বছরে ডিএনসিসির অগ্রগতির সার্বিক চিত্র এবং আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। মেয়র আতিক বলেন, খালগুলো দখলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করেছি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে। একই সঙ্গে আগামী এক বছর ডিএনসিসিতে নতুনভাবে যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাশাপাশি কাওরানবাজার হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করা হবে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সারা বছরই কাজ করছি। এ বছর বর্ষার আগেই ৫৪টি ওয়ার্ডে মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালনা করছি। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। বিটিআই আনার জন্য গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিলাম, ঠিকাদার প্রতারণার আশ্রয় নেয়ায় তাকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে আমরা বিটিআই আনার বিষয়টি বন্ধ না করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজেরাই সরাসরি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। দ্রুতই বিটিআই আনতে পারব। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে এমন পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছি। কার্যকরভাবে ওষুধ ছিটানোর জন্য অত্যাধুনিক মেশিন বাফেলো টারবাইন নিয়ে আসব, এটি প্রক্রিয়াধীন। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযান চলমান রয়েছে। মেয়র বলেন, অনলাইনভিত্তিক স্মার্ট সেবার পরিসর বাড়িয়েছি। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স- এগুলো অনলাইনে হচ্ছে। গুলশান-১ ও তালতলা মার্কেটে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্মার্ট পার্কিং চালু করেছি। গুলশান-২ এ এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)ভিত্তিক ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর মাধ্যমে প্রমাণ করেছি ডিএনসিসি ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল বাস্তবায়নে সক্ষম। আরো ৬টি স্থানে এআই ভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। সেবা সহজ করার লক্ষ্যে অনলাইন সেবার পরিসর বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছি। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, একটি স্মার্ট জবাইখানা করার ইচ্ছা আছে। আমি দ্রুতই এটি বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেব। এ ছাড়া গাবতলিতে বৃক্ষ ও প্রাণী হাসপাতাল নির্মাণ করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, শহরের পরিবেশ রক্ষায় দুই বছরে দুই লাখ গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। গত বছর ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। আমরা বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দিয়ে ৪৭ জন মালি নিয়োগ দিচ্ছি। দুজন সুপারভাইজার নিয়েছি। এই বছর আরো দেড় লাখ গাছ রোপণ করা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে খালি জায়গায় শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মো. আতিকুল ইসলাম। নির্বাচিত হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে তিনি শপথ নেন। পরে একই বছরের ১৩ মে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম, ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ডিএনসিসির সব বিভাগীয় প্রধান, কাউন্সিলর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App