×

শেষের পাতা

কিশোর গ্যাংয়ের কারণ খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোর গ্যাংয়ের কারণ খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
কাগজ প্রতিবেদক : কিশোর গ্যাংয়ের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইদানীং কিশোর গ্যাং দেখছি। এগুলো তো আমরা দেখতে চাই না। কেন ছেলেমেয়ের এই পথে যাবে এটা তো গ্রহণযোগ্য নয়। সেখান থেকে তাদের বিরত করা, একটা সুষ্ঠু পরিবেশে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা। ভার্চুয়াল বোতাম টিপে ফল প্রকাশের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে একযোগে ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পড়াশোনা করা দরকার, তারা কাজ করতে পারে, বিভিন্ন কাজে যোগ দিতে পারে। কিন্তু এই লাইনে (কিশোর গ্যাং) কেন গেল সেটা আমাদের বের করতে হবে। সেখান থেকে তাদের বিরত করা, তাদের একটা সুস্থ পরিবেশে নিয়ে আসা, সেটা আমাদের করতে হবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ায় আনন্দ অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মনে করি শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে অভিভাবকদেরও একটা আগ্রহ থাকবে যে তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। ফেল করেছে বলে গালমন্দ করবেন না : যারা পাস করেছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অকৃতকার্য হয়েছে, ফেল করেছে তাদের বলব, মন খারাপ যাতে না করে। এবার হয়ত কোনো কারণে তারা পারেনি। সেটা খুঁজে বের করে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেল করেছে বলে গালমন্দ করবেন না। ফেল করেছে এতেই তো তাদের মনোকষ্ট। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। পড়াশোনার দিকে আরো মনোযোগী করতে হবে। গালমন্দ করলে তারা সেটা নিতে পারবে না। এ সময় ফলাফল নিয়ে সন্তানদের ওপর চাপ প্রয়োগ না করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। ছেলেরা কেন পিছিয়ে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফলাফলে দেখলাম, তিন বোর্ডে ছাত্রের সংখ্যা বেশি। কিছু জায়গায় সমান। অধিকাংশ জায়গায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। এটা আমাদের জন্য সুখবর। এইচএসসি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা আমরা অবৈতনিক করেছি। পরীক্ষায়ও ছাত্রী সংখ্যা বেশি। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে, কেন ছাত্রের সংখ্যা কম। কী কারণে আমাদের ছাত্ররা কমে যাচ্ছে। পাসের ক্ষেত্রেও মেয়েরা অগ্রগামী। এটা ভালো কথা। কিন্তু ছেলেরা কেন পিছিয়ে? বের করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১৫০। এর মধ্যে ছেলের সংখ্যা ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪ এবং মেয়েদের সংখ্যা ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮৬। ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? সমান সমান থাকবে। সোনার বাংলার জন্য সোনার মানুষ অপরিহার্য : শেখ হাসিনা বলেন, দিনে দিনে শিক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। তারপরও কেউ কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে তারা শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে, এটা আমাদের দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা একটা শিক্ষানীতি করেছি, এখন সেটা বাস্তবায়ন করছি। বিনামূল্যে আমরা বই বিতরণ করছি। আজকে ৭৬ শতাংশ বেড়েছে স্বাক্ষরতার হার, এটা আমাদের অর্জন। সরকারপ্রধান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখাতে হবে। জাতির পিতা বলতেন, সোনার বাংলা গড়তে হবে। সোনার বাংলার জন্য সোনার মানুষ অপরিহার্য। মুখস্ত শিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন : প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বিশেষ করে মুখস্ত শিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শুধুমাত্র মুখস্ত বিদ্যা শিখবে না। একটা শিশুর ভেতর যে মেধা ও মনন থাকে তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়া। তার ওই মেধা দিয়েই যেন সে এগিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম এবং শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের কেবল বই দিয়ে বসিয়ে না রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া যেমন ফ্লোরে যদি একটি মানচিত্র থাকে যেখানে মহাদেশ ও মহাসগর থাকল, সেখানে বাচ্চাদের শেখানো যে একটা জায়গা থেকে আর একটা জায়গায় তোমরা লাফ দিয়ে যাও। তাহলে খেলতে খেলতেই সে ওই নামগুলোও জেনে যাবে। কাজেই খেলার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা যেন প্রাথমিক পর্যায়ে আসে সেটা করে দেয়া যায়। তা করলে আমার মনে হয় তাদের কতগুলো মহাদেশ আর মহাসাগর তা মুখস্ত করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখবে, খেলবে, বিভিন্ন রং দেয়া হবে এক একটায়, সেভাবেই তারা শিখে যাবে। এ ধরনের অনেক কিছু আমাদের করতে হবে বলে আমি মনে করি। আমরা শিক্ষায় বিনিয়োগ করি : শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছরে ৫ হাজার ৯৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ ও আমরা প্রণয়ন করেছি। সেই সঙ্গে শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আমরা সরকারে আসার পর দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয় সেজন্য তার সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই বলে গেছেন শিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হয় সেটা বিনিয়োগ। আমরা বিনিয়োগ করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে সবসময় প্রচেষ্টা ছিল মানুষের মাঝে এই সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা যেন তারা লেখাপড়ার দিকে মনযোগ দেয়। ফলশ্রæতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি স্বাক্ষরতার হার যেমন বেড়েছে তেমনি পাঠ্যক্রমে অংশ নেয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তারপরও আমি বলব যদি কেউ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব তাদের স্কুলে পাঠানো এবং পড়াশোনা করানো। তিনি বলেন, শুধু সাধারণ বিএ-এমএ পাস করবে তা নয়, কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তিসহ সার্বিকভাবে শিক্ষিত হওয়ায় জন্য যা যা দরকার সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো শিক্ষা ব্যবস্থাই আমরা প্রবর্তন করতে চাই। স্বাধীনতার পর পরই বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে জাতির পিতার শিক্ষা কমিশন গঠন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের উপযোগী একটি শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সে নীতিমালা আর আলোর মুখ দেখেনি। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পরই অতীতের সেই শিক্ষা নীতির আলোকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারায় তা আবার তিমিরেই হারিয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার আবারো উদ্যোগ নিয়ে সে নীতিমালা প্রণয়ণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটা সংশোধন ও পরিমার্জন করারও সুযোগ রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App