×

শেষের পাতা

সিসিকের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে আনার আশ্বাস মেয়রের

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে আনার আশ্বাস মেয়রের
সিলেট অফিস : সিলেট নগরের হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। নগরের হোল্ডিং ট্যাক্স আচমকা কয়েকশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া নিয়ে ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার সিসিক আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আশ্বাস দেন তিনি। সিসিকের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ট্যাক্স নির্ধারণের বিষয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা সভা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে ২৭টি ওয়ার্ডে রিভিউ বোর্ড গঠন করা হবে। পূর্ব নির্ধারিত সময় বর্ধিত করে তা আগামী ২৮ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আবেদন রিভিউয়ের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া নতুন ১৫টি ওয়ার্ডের অ্যাসেসমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, চলমান এসেসেমেন্ট/রি-অ্যাসসমেন্ট নিয়ে কোনো প্রকার উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সিলেটের সচেতন নাগরিক ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের পরিষদের আলোচনা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সহনীয় মাত্রায় ট্যাক্স নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মেয়র জানান, করারোপ নিয়ে যারা আপত্তি করেছেন, তাদের আবেদন শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে রিভিউ করা হবে। আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ করব। এখানে কারো প্রতি অবিচার করা হবে না। যে কোনো বিষয়ে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করবে সিসিক। ইতোমধ্যে যারা অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন, তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে স্বচ্ছতার মাধ্যমে দেখা হবে। সবার সহযোগিতায় এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, অনেক প্রভাবশালী কোনো দিন কর পরিশোধ করেননি। অনেকে আবার নিয়মিত কর পরিশোধ করেন না জানিয়ে মেয়র বলেন, এভাবে চললে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন হবে কীভাবে? সিলেটের নাগরিকদের নিয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সহনীয় মাত্রায় কর নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই। এর আগে বেলা ১১টায় সভাকক্ষে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা। উল্লেখ্য, পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নের পর গত ৩০ এপ্রিল হোল্ডিং ট্যাক্সের নতুন তালিকা প্রকাশ করে সিলেট সিটি করপোরেশন। নতুন তালিকায় হোল্ডিং ট্যাক্স আবাসিক ভবনের প্রতি বর্গফুট ৫ টাকা ও বাণিজ্যিক ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে আবাসিক ভবনের প্রতি বর্গফুট তিন টাকা ও বাণিজ্যিক ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য পাঁচ টাকা নির্ধারিত ছিল। যদিও মেয়রের কাছে আবেদন করে অনেকে এর চেয়ে কম ট্যাক্স দিতেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ সালে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে হোল্ডিং সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হয়। এতে নগরের পুরনো ২৭টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং নির্ধারিত হয় ৭৫ হাজার ৪৩০টি। এসবের ট্যাক্স আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা। তবে নতুন নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্সকে অযৌক্তিক ও অন্যায্য দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন নগরের বাসিন্দারা। এমন দাবিতে প্রতিদিনই নগরে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন সংগঠন। এই ক্ষোভ-প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার বিকালে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App