×

শেষের পাতা

গণিতে খারাপ করায় কমলো জিপিএ ৫

চট্টগ্রামে পাসের হার বেড়েছে

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে পাসের হার বেড়েছে
চট্টগ্রাম অফিস : এবার এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবারেরর চেয়ে এবার পাসের হার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩ জন পরীক্ষার্থী। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৪৫০ জন। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ কমার কারণ হিসেবে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা পিছিয়ে থাকার কথা বলছেন শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এএমএম মুজিবুর রহমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে পাসের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে এবার আমাদের পরীক্ষার্থীরা ভালো করেছে। কোভিড মহামারির সময় ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সাল- এ তিন বছর সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। এবার সে ধরনের কিছু হয়নি। মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে সার্বিকভাবে পরীক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। আর এ কারণে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা গণিত অনুশীলনের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, স্কুলে পর্যাপ্তসংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করে মানসম্মত পাঠদানের বিকল্প নেই। ফলাফলে দেখা যায়, এবার ১৭ হাজার ৭৭০ জন পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করেছে। সাধারণ গণিতে ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং উচ্চতর গণিতে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। আর কোনো বিষয়ে এত পরীক্ষার্থী ফেল করেনি। এবার ছাত্রদের তুলনায় ভালো ফলাফল করেছে ছাত্রীরা। ঘোষিত ফলাফলে চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার মিলিয়ে এবার পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র পাসের হার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ছাত্রী পাসের হার ৮৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৭৩ জন ছাত্র ও ৫ হাজার ৭৫০ জন ছাত্রী। গতবার ছাত্র পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ছাত্রী পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৪ জন ও ছাত্রী ৬ হাজার ৪৪৬ জন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে আছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। মানবিকে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ১১। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৭ জন, আর মানবিকে ১৩৭ জন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলায় বেড়েছে পাসের হার। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়। প্রতিটি জেলায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর পাসের হার বাড়ল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। রাঙ্গামাটি জেলায় পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বছর পাসের পার বেড়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৭২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গতবছর ছিল ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের পার বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৭২ শতাংশ ৭০ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পাসের পার বাড়ল ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৮৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মহানগরে পাসের হার বাড়ল ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মহানগর বাদে এবার জেলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পাহাড়ের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেছে। এটা একটা ভালো দিক। এর কারণ হিসেবে আমরা যেটা ধারণা করছি, আমাদের শিক্ষাঙ্গনে এখন যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’ এবারের পরীক্ষায় ১ হাজার ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন্দ্র ছিল ২১৯টি। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬৩ হাজার ৫৮১ জন ও ছাত্রী ৮১ হাজার ৪৪৩ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, সাধারণ গণিতে এ বছর পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা বিষয়ভিত্তিক পাসে সর্বনিম্ন হার। এরপর রয়েছে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ৯৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর উচ্চতর গণিতে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এছাড়া বাংলা প্রথম পত্রে ৯৮ দশমিক ৭৩, দ্বিতীয় পত্রে ৯৯ দশমিক ১১, ইংরেজি প্রথম পত্রে ৯৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সাধারণ বিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৪৪, রসায়নে ৯৭ দশমিক ৪২, পদার্থ বিদ্যায় ৯৯ দশমিক ১০ শতাংশ, জীব বিজ্ঞানে ৯৮ দশমিক ৮৩, হিসাববিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৯৬, ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ৯৯ দশমিক ১৮ শতাংশ, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় উদ্যোগে ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ পাস করেছে। শতভাগ পাসের তালিকা থেকে ছিটকে গেলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির বিচারে সেরা তালিকায় নিজেদের আসন অক্ষুণ্ন রেখেছে কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭৪ জন পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে ৪৭৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৬৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩২ জন। ৩১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়ে তালিকার ৩য় অবস্থানে রয়েছে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়। ৪র্থ অবস্থানে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ৫ম নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৭ম চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৮ম চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ৯ম বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং দশম অবস্থানে অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এসএসসি পরীক্ষায় এবারের ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শতভাগ ফেল করেছে এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তবে শতভাগ পাশ করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৬টি। এ বোর্ড থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ জন। শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে প্রথমে রয়েছে হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। যেখানে ২৪৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সেন্ট প্ল্যাসিডস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তাদের পরীক্ষার্থী ছিল ২২৯ জন। ৩য় স্থানে ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ৪র্থ অবস্থানে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। আর ৫ম অবস্থানে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App