×

শেষের পাতা

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলোচিত জামাল উদ্দিন প্রকাশ বাক্কা জামাল হত্যা মামলার রায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনের যাবজ্জীবন সাজার রায় দিয়েছেন আদালত। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জামাল হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৪র্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) জহিরুল হক সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রায় ঘোষণাকালে যাবজ্জীবন সাজপ্রাপ্ত মো. আলী হোসেন প্রকাশ ও মির্জা মো. আলী হোসেন নামে খালাসপ্রাপ্ত আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য ৮ আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের সবাই পলাতক রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া এ মামলায় পাঁচজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, একই গ্রামের সালাউদ্দিন, আব্দুর রহমান, মফিজুর রহমান খন্দকার, জিয়াউদ্দিন শিমুল, জাহিদ বিন শুভ, রেজাউল করিম বাবলু, মো. রিয়াজ উদ্দিন মিয়াজী, মো. আমির হোসেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের নুরুল আলম, কফিল উদ্দিন, নুরুন্নবী সুজন, ইকবাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খন্দকার, মোশারেফ হোসেন, মো. আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী হোসেন। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আলকরার কুলাসার গ্রামের নজরুল ইসলাম শিমুল, আজিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন সোহেল, আতিকুর রহমান নান্টু ও ইউসুফ হারুন মামুন। মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি শুক্রবার রাত অনুমান ৮টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়া রাস্তার মাথা এলাকায় আজিজুল হক বাচ্চু খোন্দকারের নির্মাণাধীন বিল্ডিং ঘরে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়ন যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি জামাল উদ্দিন প্রকাশ বাক্কা জামালকে হত্যা করে দুর্বত্তরা। ওই সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তুচ্ছ একটি ঘটনায় জামাল উদ্দিনের ওপর হামলা করে তাকে আহত করা হয়। এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার করার পর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি রাত আটটায় যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিন নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়া রাস্তার মাথা এলাকায় পৌঁছলে সড়কের ওপরে বাচ্চুর নেতৃত্বে অন্য আসামিরা গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জামালের বড় বোন জোহরা আক্তার বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত সাপেক্ষে একই বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলার চার্জশিট দেয় চৌদ্দগ্রাম থানাপুলিশ। গতকাল আদালত রায় দেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী (পিপি) জহিরুল হক সেলিম বলেন, ‘মামলায় ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নয়জনের মৃত্যুদণ্ড, নয় জনের যাবজ্জীবন ও পাঁচজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় একজন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ও দুইজন খালাসপ্রাপ্ত উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী জোহরা আক্তার জানান, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে অল্প সময়ের মধ্যে দণ্ড কার্যকর করবে আদালত।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App