×

শেষের পাতা

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাগজ প্রতিবেদক : দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে গণমুখী, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, উপযুক্ত ও টেকসই কৌশল পরিকল্পনা নিতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে দ্রুত করতে কৌশল ঠিক করুন- যাতে আমরা দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমার অনুরোধ যে পরিকল্পনাই নেয়া হোক না কেন তা যেন পরিবেশবান্ধব হয়। কারণ, জলবায়ুর অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতেই হবে। খরা, বন্যা, জলোচ্ছ¡াস প্রতিনিয়ত আমাদের মোকাবিলা করতে হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা নিতে হবে। সব জলাধার রক্ষা করতে হবে। দরকার হলে জলাধার সংরক্ষিত রেখে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর এলাকায় পানির প্রবাহ ধরে রেখে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রেখেও কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা নিতে হবে। পরিকল্পনাগুলো টেকসইয়ের পাশাপাশি খরচের দিকটাও বিবেচনায় নিতে হবে। অহেতুক কোনো পরিকল্পনা যেন না নেয়া হয়। এটা একনেকেও নির্দেশ দিয়েছি। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)র ৬১তম কনভেনশনে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান। রাজধানীতে আইইবি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে ‘প্রকৌশল ও প্রযুক্তির জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ’ মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইইবি ঢাকা সেন্টার। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইইবি সভাপতি সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এস এম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেইন ও আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের প্রকৌশলী, কেন্দ্র, উপকেন্দ্র, প্রকৌশল বিভাগ এবং এএমআইই পরীক্ষার স্নাতকদের হাতে স্বর্ণপদক ও সনদসহ পুরস্কার তুলে দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- কোনো পরিকল্পনা নিলে তা থেকে জনগণ কতটুকু লাভবান হবে বা এর রিটার্ন কী আসবে সেই পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধুমাত্র একটা নির্মাণকাজের জন্য যেন নির্মাণ করা না হয়। একটা কনস্ট্রাকশন হলে কিছু লোক কাজ পাবেন, কিছু কমিশন বা কিছু লোক নানা সুবিধা পাবেন সেটা যেন না হয়। আমি এমপিদেরও নির্দেশ দিয়েছি। সংসদে বলেছি, একনেক সভাসহ সব জায়গায় বলেছি। আর সে রকম যদি কোনো প্রকল্প দেখি আমি তা অনুমোদন করব না। যেটা আমার দেশের কাজে লাগবে, মানুষের কাজে লাগবে আর যে প্রকল্প শেষ করলে পরে তার থেকে দেশ কিছু লাভবান হবে, মানুষ লাভবান হবে, আমাদের উপার্জন হবে সেভাবেই যেন পরিকল্পনা করা হয়। এটাই আমার কাম্য। প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আরো অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আপনারা বিশেষভাবে অবদান রাখতে পারবেন, আমরা সেটা আশা করি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে দেশ যাতে আরো উন্নত হয় সে জন্য যা যা করণীয় আমরা করেছি। ইতোমধ্যে ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, ২০২১’ বাস্তবায়ন করেছি। এখন ২০৪১ প্রণয়ন করে সেটা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছি। আর জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি পরিকল্পনা ২০৩০ বাস্তবায়ন করছি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেখানে ‘স্মার্ট জনসংখ্যা’, ‘স্মার্ট সরকার’, ‘স্মার্ট অর্থনীতি’ এবং ‘স্মার্ট সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। সেভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। সেটার জন্য প্রকৌশলীদের বলব আপনাদের মেধা ও মনন দিয়ে পরিকল্পনা কী নেয়া যায়? কীভাবে এগুনো যায়? কোনো কোনো খাতকে আরো অগ্রাধিকার দিতে পারি- সেক্ষেত্রে আপনাদের পরামর্শ চাই। যেটা আমাদের কাজে লাগবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন একটি গেøাবাল ভিলেজ। কাজেই বিশ্বের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে হবে। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি সেই পরিকল্পনা করছি। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ২০২৬ সাল থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। কাজেই এখন থেকেই যথাযথ পরিকল্পনা নিচ্ছি। কিন্তু, এখান থেকে যে সুযোগগুলো পাব সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আমরা তা পারবো। কাজেই এখন থেকেই সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন যাদের চোখে পড়ে না সেই বিশেষ গোষ্ঠীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু কিছু মানুষ আছেন, আপনি যাই করেন, কিছুই তাদের ভাল লাগে না। ‘কিছু ভালো লাগে না’ একটা গোষ্ঠীই রয়েছে। যেমন- কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন পদ্মা সেতুতে রেল যোগাযোগের কী দরকার ছিল বা স্যাটেলাইট-২ বা কি দরকার আছে? পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন করা হলো? শুধু শুধু টাকা নষ্ট। মেট্রো রেলের তো দরকারই ছিল না। ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে মেট্রোরেল না করে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করলেই তো যানজট দূর হতো। অনেকেই বলেছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের টাকা ছাড়া পদ্মা সেতু হবে না। কিন্তু আমরা নিজের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি যে আমরাও পারি। জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন ‘বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’ আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। এই যে কিছু ভালো লাগে না গোষ্ঠীর এগুলো সফলভাবে নির্মাণ হওয়ায় মানুষের জীবন যাত্রা আরো সহজ হয়ে গেছে, এতে তাদের কী অসুবিধা হচ্ছে, তারা কী এর সুবিধা ভোগ করছেন না? শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীদের গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে যা আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চাই। সেক্ষেত্রে আমি বলব আমাদের প্রকৌশলীদেরও গবেষণা করা দরকার। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বহুমুখী করেছি, আগামীতে আরেকটি দিক আসছে হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ উৎপাদনেও আমাদের গবেষণা দরকার। একই সঙ্গে স্বল্প খরচে টেকসই যন্ত্রপাতি নির্মাণ, স্থাপনা নির্মাণ ও মেরামতেও গবেষণা দরকার। প্রকৌশল ক্ষেত্রে আরো বেশি গবেষণা করে আপনাদের যে উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা রয়েছে সেটাকে কীভাবে দেশের কাজে লাগাতে পারি সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন। কারণ, আমাদের সবকিছুই নির্মাণের দায়িত্ব পড়ে প্রকৌশলীদের ওপর। অল্প খরচে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দরভাবে বসবাস উপযোগী আবাসস্থল তৈরিতে পরামর্শ বা পরিকল্পনা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিত্তশালীরা কেবল নয়, আমি চাই আমার রিকশাওয়ালা, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষসহ দিন মজুররাও ফ্লাটে থাকবে। আমার প্রতিটি কাজ হচ্ছে তৃণমুল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। একথা মাথায় রেখেই আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। দেখবেন নিজেদেরও ভালো লাগবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছি বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিক উন্নতি করে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে। সেখানে মূল চালিকা শক্তি হবে আমাদের প্রকৌশলীরা। কাজেই আপনাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। সেটা আমরা করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App