×

শেষের পাতা

ওবায়দুল কাদের

কারো দাসত্ব করি না, ভারত আমাদের বন্ধু

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কারো দাসত্ব করি না, ভারত আমাদের বন্ধু
কাগজ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারত আমাদের বন্ধু। আমরা কারো দাসত্ব করি না। ভারতের সঙ্গে শত্রæতা করে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা সেই অবস্থায় আর ফিরে যেতে চাই না। গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর গতকাল আওয়ামী লীগের রাজপথের এই কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। সকাল থেকে সমাবেশে যোগ দিতে দলে দলে গজনবী রোডে আসতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। দুপুর হতে পুরো সমাবেশস্থল কয়েক হাজার নেতাকর্মীতে ভরে যায়। সমাবেশস্থল থেকে মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্প পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। বিকাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতের সঙ্গে ২১ বছর শত্রæতা করে আমাদের লাভ হয়নি। বিএনপি শত্রæতা করে সংশয়, অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। শেখ হাসিনা সেই অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি করেছেন। সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছেন। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মতো আরেকটি বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি আদালতের মাধ্যমে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, শুক্রবার পল্টনে গয়েশ্বর রায় এক পসরা মিথ্যাচার করে বলেছেন, আমরা নাকি ভারতের দালাল। এই অপবাদ আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার সময় থেকে শুনে আসছি। তিনি নিজেই তো ভারতে পালিয়ে ছিলেন। মাথায় গান্ধী টুপি দিয়ে এখন আবার ভণ্ডামি শুরু করেছেন। ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করল, আপনি ভারত সফর করলেন, গঙ্গার পানির কী হলো? তিনি বললেন, আমি তো ভুলে গেছি। ভারতে নরেন্দ্র মোদির বিজয়ের পরে ভোর হওয়ার আগে ফুল আর মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বিএনপির নেতারা। দালাল তাহলে কারা? ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু ঢাকায় আসছেন। এ কথা শুনে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিএনপি। আসলে লু আসছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে। বিএনপির স্বপ্ন পূরণের জন্য আর কেউ আসবে না, আমেরিকাও না। উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি বলে, জনগণ নাকি উপজেলা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ লোক যে ভোট দিল তারা কারা? বিএনপি নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তাদের নেতারা একের পর এক তারিখ দিয়ে সরকার পতন করে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো আওয়ামী লীগ সরকারকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছে। এই দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, এই দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। কেউ এই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। দণ্ডিত পলাতক আসামি তারেক রহমান যত দিন বিএনপির নেতৃত্বে থাকবে ততদিন দলটি সংসদে যেতে পারবে না- মন্তব্য করে সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের কারণেই দলটির নেতারা হতাশায় ভুগছেন। তারেকই চায় না দলটি নির্বাচনে আসুক। সে নেতৃত্বে থাকলে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই তারেক রহমান যত দিন বিএনপির নেতৃত্বে থাকবে ততদিন দলটি সংসদে আসতে পারবে না। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় সরকার। কিন্তু বিএনপি কোনো নির্বাচনেই আসে না, তাহলে তাদের আন্দোলনের হেতুটা কী? ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কৃষি ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App