×

শেষের পাতা

রংপুর শহরে ফিরবে স্বস্তি

একদিনেই আবর্জনামুক্ত শ্যামাসুন্দরী খাল

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাসান গোর্কি, রংপুর থেকে : একদিনেই ময়লা, আবর্জনা ও জঞ্জালমুক্ত হলো রংপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল। একযোগে খালের পাঁচ কিলোমিটার অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এই কার্যক্রমে অংশ নেন স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন বিডি ক্লিনের এক হাজার সদস্যসহ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এর আগে গতকাল শনিবার সকালে রংপুর শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে শ্যামাসুন্দরী খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতার সুফল সম্পর্কে নগরবাসীকে বেশি করে সচেতন করতে সবাইকে, যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। শ্যামাসুন্দরী খালের আশপাশে বসবাসরত নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর নতুন করে ময়লা ফেলা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য অবৈধ স্যুয়ারেজ সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে রংপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, সিটি করপোরেশনের সচিব জয়শ্রী রানী রায় ও বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমাদের চারপাশে এখন খেকোদের সংখ্যা বাড়ছে। নদীখেকো, খালখেকো, বালুখেকো, কৃষিজমি খেকোর ছড়াছড়ি। এসব খেকোদের কারণে আমাদের পরিবেশ প্রকৃতি আজ হুমকিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খেকোরা জড়িত। তাদের কাছ থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ রক্ষায় আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। দখলকারী, দূষণকারী, খেকোদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তিনি এ সময় বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তারা রংপুরকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রায় ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং স্থানভেদে ২৩ থেকে ৯০ ফুট প্রশস্ত এই খাল সিটি এলাকার উত্তর পশ্চিমে কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর ধাপ পাশারিপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সীপাড়া, নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, শাপলা চত্বর, নূরপুর, বৈরাগিপাড়া ও মাহিগঞ্জ সাতমাথা রেলগেট এলাকায় কেডি ক্যানেল স্পর্শ করে খোকসা ঘাঘট নদীতে মিশেছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল আর দূষণে ভরা এই শ্যামাসুন্দরী খাল নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পানি প্রবাহের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই উপচে পড়ে বাড়িঘর ডুবে যেত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ হলে ময়লা-আবর্জনা ও মশার অভয়াশ্রম খ্যাত এই খাল অবশেষে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে নগরবাসীকে। সেইসঙ্গে সৌন্দর্য্য ফিরে পাবে শ্যামাসুন্দরী। এই খালটি ১৮৯০ সালে খনন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, খালটি প্রথমে ৬০ থেকে ১০০ ফুট চওড়া হলেও এখন এটি চিকন নালায় পরিণত হয়েছে। এর পানি কালো হয়ে গেছে। সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App