×

শেষের পাতা

খুলনায় ওসির কাণ্ড

মেয়রের সুপারিশ তবুও নেননি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি : দুই সন্তানের মা এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়িয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ওই নারীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে পালিয়ে যায় ধর্ষণে উদ্যত জলিল মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি। মোংলা পৌর শহরতলীর সিগনাল টাওয়ার এলাকায় গত ৯ মার্চ সকাল ৯টায় ঘটনাটি ঘটে। তবে এ ঘটনায় থানায় কয়েকবার মামলা দায়েরের জন্য গেলেও মামলা নেয়নি মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম। এদিকে মামলা না নেয়ায় নিরুপায় হয়ে গত বৃহস্পতিবার বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারীর খালা নাছিমা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ৯ মার্চ তার বোনের মেয়ে দুই সন্তানের মা (২৮) বাড়িতে স্বামী-সন্তান না থাকায় তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় স্থানীয় মৃত কাদের মাতুব্বরের ছেলে জলিল মাতুব্বর। এ সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে রক্তাক্ত করা হয়। ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে লোকজন ছুটে এলে জলিল পালিয়ে যায়। পরে তার বোনের মেয়েকে ওইদিন রাতে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনা স্থানীয় লোকজনকে জানানোর অপরাধে জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারের ছয়জনকে মারপিট ও ঘরে ভাঙচুর চালায়। জলিল মাতুব্বরকে আসামি করে মোংলা থানায় ধর্ষণ মামলা করতে যান ভুক্তভোগী। কিন্তু মামলা নেয়া হয়নি। এ মামলায় ব্যবস্থা নিতে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের লিখিত সুপারিশও রয়েছে। তবে থানায় এজাহার নিয়ে যাওয়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ওই নারীর খালা নাছিমা বেগমকে ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম থানা থেকে বরে করে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন খালা নাছিমা। এরপর কয়েক দফায় মামলা দায়ের করতে থানায় গেলেও ওসি নানা অজুহাত দেখিয়ে মামলা নেননি। মামলা দায়ের করতে থানায় যাওয়ায় জলিল মাতুব্বর গং আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৬ মে বিকালে নাছিমা বেগমসহ তার ছেলে শিমুল, ছেলের বউ হাফিজা ও নাতি ওমরের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার ঘটনার এজাহার নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। ধর্ষণ চেষ্টা ও হামলার ঘটনার মামলা না নেয়ায় ভুক্তভোগীরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি তার জানা নেই। আর মারামারির ঘটনায় থানা থেকে বের করে দেয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, এজাহারের সঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। পরে তারা আর আসেননি। এজন্য ওই মামলাও নেয়া হয়নি, তবে অভিযোগটি তদন্তে দেয়া হয়েছে। হামলার শিকার শিশু মো. ওমরের (৭) মা হাফিজা বেগম বলেন, ওসি মিথ্যা বলেছেন। মামলা করতে এজাহারের যাবতীয় সব কাগজপত্র নেয়া হলেও ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম থানা থেকে তাদের বের করে দেন। এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল হাসনাত খান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যেসব অভিযোগে ওসি মামলা নেয়নি, সেই অভিযোগগুলোর কপি তার ওয়াটসঅ্যাপে দিতে বলেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App