×

শেষের পাতা

টুঙ্গিপাড়া মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রতিটি নাগরিককে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিটি নাগরিককে স্বাবলম্বী করতে  কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার
কাগজ প্রতিবেদক : দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাবলম্বী করতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এজন্য আমরা বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা চাই, সারাদেশে এভাবে মানুষকে নিয়ে যৌথভাবে উৎপাদন বাড়ানো, সঞ্চয়ের মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি ও জীবনমান উন্নত করব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দাড়িয়াকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনার দেয়া ৯ দশমিক ০৫ একর জমিতে গড়ে উঠেছে দরিয়াকুল সমবায় সমিতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বসা ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আমরা সরকারে আসি। সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা কাজ করব। তখন এই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটা, জাতির পিতা যে সমবায় করতে চেয়েছিলেন তারই আলোকে আমরা এটা গড়ে তুলি। প্রতিটি পরিবারের জন্য এটি হচ্ছে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। ক্ষুদ্র ঋণের অধিক যে ট্যাক্স দিতে হয়, সেটা দিতে হবে না। টাকা নিয়ে অতিমাত্রায় সুদ দিতে হয়, সেটা দিতে হবে না। বরং সমবায়ের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটা পরিবারকে যে সহযোগিতা করব সেটা থেকে যে উৎপাদন হবে, সেই উৎপাদন থেকে কেউ যদি ১০০ টাকা জমাতে পারে তাহলে সরকারের কাছ থেকে আরো ১০০ টাকা দেয়া হবে দুই বছরের জন্য। সেটা জমা হবে তার মূলধন হিসেবে। তিনি বলেন, এজন্য আমি একটা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক তৈরি করেছি। এই ব্যাংকে এটা থাকবে। প্রকল্প থেকে যারা একটু স্বাবলম্বী হয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকেই তাদের টাকা থাকবে তার মূলধন হিসেবে, তিনি ব্যবসা বা যেটাই করেন- হাঁস-মুরগি পালন বা চাষ করা, যে যেই কাজ পারবে সেই কাজ করে ওই ব্যাংক থেকে লোন নেবেন এবং কাজ করে টাকা শোধ দেবেন। অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে স্বাবলম্বী হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও কাজ করছি। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধাভোগীদের ভবিষ্যত জীবন সুরক্ষিত করবে। আমি আমার দলের নেতাকর্মীদের বলব নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নাম অন্তর্ভুক্ত করুন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে এটাও বন্ধ করে দেয় এক রকম বলতে গেলে। এর কার্যকারিতাই থাকে না। যা হোক, আমরা পরবর্তীতে সরকারে এসেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। একে একে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকটাকে আরো উন্নত করে গড়ে তোলা ও সেই সঙ্গে এই ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেয়া, আর ঋণের সঙ্গে যারা সঞ্চয় করতে পারবে, পারলে তাদের এই আর্থিক সহায়তা দিয়েই স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। সেই কাজটা কিন্তু আমরা করে যাচ্ছি। এ সময় আগামী পহেলা আষাঢ় থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আহ্বান জানাব দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বর্ষাকালে প্রত্যেকেই অন্তত তিনটি করে গাছের চারা লাগাবেন। এ সময় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ জনকে ১টি ধান মাড়াই মেশিন, ২ জনকে দুটি ল্যাপটপ, শিক্ষা সহায়তা হিসেবে ৩৮ শিক্ষার্থীকে ৪০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান, ১০ জনকে ১০টি ভ্যান, ৩০টি সেলাই মেশিন, ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ, কাগজ-কলম ও ছাতা দেন। এছাড়া ১০ জনকে ১০টি বাইসাইকেল, ১০ জনকে বীজ, সারসহ পুষ্টি বাগান উপকরণ ও একজনকে কবুতর খামার করার জন্য ১০ জোড়া কবুতর দেন। অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীরা তাদের সরঞ্জাম এবং আর্থিক অনুদান পাওয়ার নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এর আগে সকালে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রার্থনা করেন, যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদ হন। টুঙ্গিপাড়ায় কর্মসূচি শেষে বিকালে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App