×

শেষের পাতা

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

কেউ আমাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ থেকে কেউ আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আমার একটাই শক্তি হচ্ছে- জনগণ। তাদের শক্তি নিয়েই আমি চলি। জনগণের মধ্যে একটি আস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, আমি তাদের জন্য কাজ করি। কাজেই এই আস্থা ও বিশ্বাসটাই হচ্ছে আমার একমাত্র সম্বল। আর এই সম্বল নিয়েই আমি চলি। এ জন্যই আমি কাউকে পরোয়া করি না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, যতক্ষণ আমার দেশবাসী আমার পাশে আছে ততক্ষণ আমি কাউকে পরোয়া করি না। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গত ২ মে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ২য় অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন অনেকে গণতন্ত্রের কথা বলে। যারা এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের জন্ম কি গণতন্ত্রের মধ্য থেকে এসেছে? না। ওই রক্তাক্ত হাতে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, সেই সেনা কর্মকর্তাদের পকেট থেকে বের হওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি। যারা বাংলাদেশেকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জিয়াউর রহমানের ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার একটা অস্থার জায়গা হচ্ছে জনগণ। তাদের জন্য আমি কাজ করি। তারাই আমার শক্তি। তারা যতক্ষণ আছে কোনো চিন্তা করি না। জনগণই সব সময় আমাকে ঘিরে থাকে। তবে কিছু সমস্যা হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। সেজন্য আমরা ভর্তুকি দিয়ে তাদের সহায়তা করছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। জনগণের জন্য আমি কাজ করে যাব। তারা আমাকে কোনোদিন দূরে সরাতে পারবে না, ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আমলে, এরশাদ সাহেবের আমলে জণগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। ৪৮ ঘণ্টা ভোটের রেজাল্ট বন্ধ করে লাখে। সেই ভোটে কিন্তু আমরা জিতে আসি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া নির্বাচন করলেন, সেখানে ভোটার নেই। সেই নির্বাচন কিন্তু খালেদা জিয়া ঠেকাতে পারেনি। ’৮৮ সালের যেমন এরশাদ সাহেব নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। খালেদা জিয়াও পারেনি। তখন বিদ্যুৎ ছিল না, খাম্বা ছিল। বিদ্যুৎ চেয়েছিল বলে কৃষককে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, ভোট চুরির অপরাধে জনগণের আন্দোলনে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে বিদায় দেয়া হয়েছে। এর পরে যে নির্বাচন হয় তাতে আমরা ক্ষমতায় আসি। ’৯৬ সালে এসে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। ’৯৬ সালে মানুষ প্রথম আওয়ামী লীগের আমলে গণতন্ত্রের স্বাদ পায় এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন যে করতে পারে, তা বুঝতে পারে। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আমার কাছে প্রস্তাব ছিল গ্যাস বিক্রি করতে হবে। আমি তো বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আমি রাজি হইনি। রাজি হইনি বলেই আমি কিন্তু ক্ষমতায় আসতে পারিনি। সেই নির্বাচনে কী হয়েছিল। আমাদের নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন অত্যাচার। নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘোরায়। ’৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী যেভাবে অত্যাচার চালায় সেভাবে বিএনপি নারীদের ওপর অত্যাচার চালায়। মেয়েদের ওপর নির্যাতনে চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, পূর্ণিমাকে গ্যাং রেপ করে। ফতেমাকে গ্যাং রেপ করে। ছোট্ট মিশমুকে ব্লেড দিয়ে চিরে গ্যাং রেপ করে। ২৫ হাজার মানুষ কোটালীপাড়ায় আমার ওখানে আশ্রয় নেয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তাদের এই তাণ্ডব চলে, নির্যাতন চলে। বাংলাভাই, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা প্রতিনিয়ত চলে। একদিনে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা। তারা পরে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। জনগণ তা বয়কট করেছে। তাদের দুঃসাশনে দেশে ইমারজেন্সি আসে। যদিও সেই সরকার তাদেরই নিজেদের লোক ছিল। ফখরুদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা, মইন উদ্দিনকে ৯ জনকে ডিঙিয়ে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল। তারা ইলেকশন দেয়ার নামে ক্ষমতায় বসে থাকে, এটা প্রতিবাদ করেছিলাম বলে গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ সালের ঘটনার পর থেকে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল অবৈধভাবে তারা ক্ষতা দখল করেছিল। জনগণের কোনো ভোটের অধিকার ছিল না। স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী- যাদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন তাদের মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তারাই প্রধানমন্ত্রী বা উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিল। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার না করতে ইনডেমনিটি আদেশ দিয়ে বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো আইনের শাসন ছিল না। এই ছিল দেশের অবস্থা। মানুষ মেরে লাশ পর্যন্ত গুম করে ফেলে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হয়েছিল বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের দেশ, দরিদ্র দেশ- এ বলে পরিচিতি লাভ করেছিল। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতা ফেলে ১৯৮১ সালে আমি ফিরে এসে দেশের অবস্থা সচক্ষে দেখেছি। দেশের কোনো উন্নয়নই ছিল না। ক্ষমতাসীনরা কিছু উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে কিছু এলিট শ্রেণি তৈরি করে। আজকে যে কথায় ঋণখেলাপির কথা আসে, এই ঋণখেলাপির কালচার কখন শুরু। আমরা দেখেছি জিয়ার আমলে, এরশাদের আমলে ঋণখেলাপির শুরু। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তবে আমদের চেষ্টা আছে তা বন্ধ করার। আমি জনগণের উন্নয়নে কাজ করি, জনগণ আমার সঙ্গে আছে। আমি জনগণের সঙ্গে আছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App