×

শেষের পাতা

চট্টগ্রামে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তারা

আধুনিক সমাজ গড়ার সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আধুনিক সমাজ গড়ার সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ
চট্টগ্রাম অফিস : গান ও কথামালার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে গত বুধবার। কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারি পর্যায়েও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু গান, কবিতাই রচনা করেননি, তিনি ছিলেন আধুনিক সমাজ গড়ায় সংস্কারক। রবীন্দ্রনাথের চেতনাকে লালন করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাঙালিকে একটি আত্মনির্ভরশীল, অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। যার ফলশ্রæতিতে আজকের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে গত বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সোনার বাংলার স্বপ্ন ও বাস্তবতা : রবীন্দ্রনাথ থেকে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির চেতনা ও মননে চিরভাস্বর। তিনি শুধু একজন কবি বা লেখক হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত ছিলেন না, তিনি আধুনিক সমাজ গড়ার সংস্কারক হিসেবে কাজ করেছেন। শিশুদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ চিন্তা ছিল। শিশুদের জন্যও তিনি অনেক গান, কবিতা রচনা করেছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও জমিদারির পক্ষে না থেকে প্রজাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি বলতেন, জমিদার ও প্রজার সম্পর্ক হবে মানবিক। সমাজের অসহায় গরিব মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজ সংস্কারক হিসেবে গরিব মানুষের জন্য সমবায় সমিতি গঠন করেন তিনি। তিনিই সর্বপ্রথম ক্ষুদ্রঋণ প্রথা চালু করে সমাজের অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার ভাবনা ছিল অসীম। কবিগুরু বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসামান্য অবদান রয়েছে। মানুষের মুক্তির দর্শনই ছিল তার দর্শন। কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্ব মানবতায়। প্রকৃতি ও মানবপ্রেমী কবি মানবকল্যাণে দাতব্য চিকিৎসালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক জনহিতৈষী কাজ করেছেন। কবির আদর্শ বুকে ধারণ করতে পারলে সুন্দর সমাজ ও দেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী জীবনদর্শন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমাজে প্রতিষ্ঠা ও রবীন্দ্র চর্চাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, জেলা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সরওয়ার কামাল বক্তব্য রাখেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App