×

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম কলেজ

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৭

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একপক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। জানা গেছে, কলেজে ভর্তি হতে প্রয়োজন ২০ টাকা দামের একটি খাম দিয়ে ১০০ টাকা নিচ্ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ ও তার লোকজন। তাতে বাধা দেন সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির। আর এ নিয়েই শুরু হয় সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ নিজেদের কর্মীরা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। আহতরা হলেন, কলেজের ইংরেজি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জাবের বিন জাফর, বিএ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন ছাবের, বিএ অনার্স ৩য় বর্ষের রিয়াজ উদ্দীন, অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল মাজেদ ফয়সাল, বিএ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিবি তাজোয়ার, বিএ অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী এরফান আলম, ইংরেজি অনার্স চতুর্থ বর্ষের জনি, বিএ অনার্স ৩য় বর্ষের মিজান ও ইশতিয়াক। আহত সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম এবং সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের মধ্যে পুরনো দ্ব›দ্ব রয়েছে। আধিপত্য হারিয়ে সভাপতি মাহমুদুল করিম বেশ কিছুদিন ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছেন না। সাধারণ সম্পাদক সবুজ মল্লিকের একচ্ছত্র আধিপত্যে ‘ভাগ বসাতে’ চান সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির। সভাপতি মাহমুদুল করিমের পক্ষের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এখন সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনিরকে সামনে রেখে রাজনীতি করছেন। তবে বিষয়টি সহজে মানতে পারছেন না কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। তিনি মনিরকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে আগ্রহী নন। ফলে, দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য ধরে রাখা নিয়ে দ্ব›দ্ব, মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া লেগেই আছে। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ¯œাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির সময় কাগজপত্র জমা দিতে শিক্ষার্থীদের খামের প্রয়োজন হয়। ২০ টাকার সেই খাম ১০০ টাকায় শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করছিলেন সুভাষ মল্লিক ও তার অনুসারীরা। প্রতিবাদ করায় কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও তারা মারধর করেছেন। আমরা বেশি দামে খাম বিক্রির কারণ জানতে চাওয়ায় তারা গায়ে পড়ে বারবার দ্ব›েদ্ব জড়িয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন, কলেজের সভাপতি মাহমুদুল করিম দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে নেই। এখন হঠাৎ করে এসে মনিরুল ইসলাম মনির নামের একজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করে তার সঙ্গে রাজনীতি করতে বলছেন। কিন্তু আমাকে তো ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কিংবা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি এরকম কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আমরা তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মেনে না নেয়ায় বারবার এসে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। চট্টগ্রাম কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সারওয়ার আজম বলেন, ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ দুই পক্ষকেই ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App