×

শেষের পাতা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

রোহিঙ্গাদের জন্য আরো তহবিল সংগ্রহে আইওএমের প্রতি তাগিদ

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : নতুন উৎস থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য আরো তহবিল সংগ্রহে আইওএমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেহেতু মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় তহবিল কমে গেছে, আইওএমের উচিত এই উদ্দেশে আরো তহবিল সংগ্রহের জন্য নতুন অংশীদারদের খুঁজে বের করা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক (ডিজি) অ্যামি পোপ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. রুহুল আমিন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফি করেন। নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করতে আইওএমকে সহায়তা করার জন্যও বলেছেন। কারণ, এখানে ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কর্মসংস্থানসহ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরে এ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৈঠকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আইওএম মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর কাছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের নিরাপদ অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছে। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দল ও উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত ও তারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত রয়েছে। রোহিঙ্গারা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন এখন তাদের এলাকায় সংখ্যালঘু হয়ে গেছে। অ্যামি পোপ স্বাগতিক দেশের চাহিদা অনুযায়ী তাদের দক্ষতা বাড়াতে ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর অভিবাসীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়ার ওপর জোর দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য দেশের কাউকে বোঝার জন্য পেশা ও ভাষার ওপর যথাযথ প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দক্ষ জনসংখ্যা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য তারা সারাদেশে ১১২টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, অভিবাসন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু, দারিদ্র্য কমলে অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বর্তমান সরকার অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে, যার মধ্যে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ দেয়া হয়েছে। আয়োজক ও উৎস দেশ উভয়েরই অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, যেহেতু তারা উভয় দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অভ্যন্তরীণভাবেও মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে। স্পিচ রাইটার প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আরো বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি এবং নদীভাঙন, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সরকার কক্সবাজারের খুরুশকুলে ৪ হাজারের বেশি জলবায়ু উদ্বাস্তুকে বাড়ি দিয়েছে। জলবায়ু সহিষ্ণু বাড়ি ও বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য ভাসমান বাড়ি নির্মাণ করছে। গৃহহীনদের মধ্যে বিনামূল্যে বাড়ি দিয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের রূপরেখা সংক্রান্ত উপস্থাপনা অবলোকন : এদিকে গতকাল বেলা পৌনে ১১টায় গণভবনে স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বিনির্মাণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের রূপরেখা সংক্রান্ত উপস্থাপনা অবলোকন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলে দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হবে ও স্থানীয়রা কতটা উপকার পাবেন তা বিবেচনায় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে ভাবতে হবে ফলাফল কি হবে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে একটি প্রকল্প নেয়ার পর জনগণ কতটা উপকার পাবে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে ও অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। রূপরেখা প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে ও প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে দেশের কতটা উন্নয়ন হবে এবং মানুষ কতটা উপকার পাবে তা আপনাদের বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, দ্রুত কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে বলে দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমাদের সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে আমরা সফলভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আমরা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিলাম। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের মধ্য দিয়ে সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তর করা। আমরা সেই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App