×

শেষের পাতা

ইউএইচসি ফোরাম-ব্র্যাক সংলাপে বক্তারা

এডিস মশার আচরণগত পরিবর্তন অশনিসংকেত

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 এডিস মশার আচরণগত  পরিবর্তন অশনিসংকেত
কাগজ প্রতিবেদক : এডিস মশার আচরণগত পরিবর্তন, গাছের কোটরে ও নোংরা পানিতে বংশ বিস্তার এবং গ্রামে ছড়িয়ে পড়াকে অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, আগে দিনে কামড়ালেও এখন রাতেও কামড়াচ্ছে এডিস মশা। আগে স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করলেও এখন নোংরা ও লবণাক্ত পানিতে এবং গাছের কোটরেও জন্মাচ্ছে এডিসের লার্ভা। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালগুলোতে বেড খালি রাখা, ডেঙ্গু পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট সংরক্ষণ, স্যালাইনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পর্যাপ্ত মজুত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছর ডেঙ্গুর বিপৎসীমার লক্ষণ অনেকটাই স্পষ্ট। তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়ে জোর দেন তারা। ২০২৪ সালে ডেঙ্গু প্রস্তুতি বিষয়ক এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এই সংলাপের আয়োজন করে ইউএইচসি ফোরাম ও ব্র্যাক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। ইউএইচসি ফোরামের আহ্বায়ক এবং ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এনটোমলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, বিআরআইসিএমের মহাপরিচালক ড. মালা খান, ব্র্যাকের হেলথ অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য পরামর্শক ড. শাবানা রোজ চৌধুরী ভিডিওর মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবার গ্রাম পর্যায়ে ডেঙ্গু পৌঁছালে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। সব রোগের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যাতে রোগটি কারো হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। যাতে মানুষের ডেঙ্গু না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। আমি নির্দেশনা দিয়েছি যাতে ডেঙ্গুকালীন কোনোভাবেই স্যালাইন সংকট দেখা না দেয় এবং স্যালাইনের দামও না বাড়ে। পরিস্থিতি যদি গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যায় সেই সময় হাসপাতালগুলোতে বেড খালি রাখার এবং পরে সার্জারি বা ভর্তি না করিয়েও চিকিৎসা দেয়া যায়, এমন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি না করানোর নির্দেশনাও দেয়া হবে। কারোর একার পক্ষে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা পারবে না, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মেয়র, কাউন্সিলর ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা দরকার। দেশে তৈরি ডেঙ্গু টেস্টিং কীটের প্রশংসা করে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। দেশের বাজারে তা পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে কেনার হার কমে আসবে, মানুষের জন্য ডেঙ্গু পরীক্ষা সহজলভ্য হবে। অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম বলেন, ডেঙ্গুর আচরণগত পরিবর্তন এসেছে। গাছের কোটরেও জন্মাচ্ছে এডিস মশার লার্ভা। গাছের কোটরে যদি এডিস মশা জন্মানো শুরু করে, গ্রামের জন্য এটি একটি অশনিসংকেত। গ্রামে গাছপালা বেশি, সেখানে মশা মারার ব্যবস্থা করা অনেক বেশি কঠিন হবে। মশা মারার ক্ষেত্রে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানিয়েছেন যে ফগিংয়ে কোনো মশা মারা যায় না। এছাড়া ভারতেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছে ফগিং কার্যক্রম। আমরা এসব বিষয়ে নোট নিয়েছি। এসব বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব। ঢাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার নেই উল্লখ করে তিনি বলেন, এর ব্যবস্থা করতে পারলে অনেক রোগীকে সহজে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কাগজে-কলমের প্রস্তুতিকে সমন্বিত বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করতে হবে। জেলা, বিভাগীয় এবং শহর পর্যায়ে ডেঙ্গু হটস্পটগুলোতে বৃহত্তর স্টেকহোল্ডার সংলাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। সেইসঙ্গে উদীয়মান সংকট প্রশমিত করতে এবং ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব রোধ করার জন্য সমগ্র সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। ড. কবিরুল বাশার ডেঙ্গু ছড়ানো মশাদের আচরণ ও প্রজনন ধারায় পরিবর্তন সম্পর্কিত নতুন গবেষণালব্ধ ফলাফলে উল্লেখ করেন, বিশ্বে ১২৬ প্রজাতির মশা থাকলেও ২২ প্রজাতির মশা রোগ ছাড়ায়। এডিস মশা কেবল পরিষ্কার পানিতেই নয়, দূষিত নর্দমার পানিতেও বেঁচে থাকতে সক্ষম। কৃত্রিম আলোর তীব্রতা বাড়ায় রাতের বেলায়ও এডিস মশা কামড়ায়। গাছের কোটরেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এডিস মশা এখন শুধু শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বও। ড. মালা খান বলেন, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘এপিডেমিক রিজিয়ন’ হিসেবে ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। দেশীয়ভাবে ডেঙ্গু টেস্টের কিট উদ্ভাবনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, এটি ঘরোয়া এবং সাশ্রয়ী। ডা. শেখ দাউদ আদনান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা ও কৌশলের ওপর আলোকপাত করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App