×

শেষের পাতা

সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ধন্যবাদ দিল মন্ত্রিসভা

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ধন্যবাদ দিল মন্ত্রিসভা
কাগজ প্রতিবেদক : সুন্দরবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুন্দরবনে লাগা আগুন নেভানোর সবশেষ পরিস্থিতি জানান তিনি। বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। এর আগে এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক বসে। এতে ১৯ বছর পর উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতœসম্পদ আইন-২০২৪ এর খসড়া উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন হয়নি। বিস্তারিত আলোচনা শেষে কয়েকটি জায়গায় পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিমার্জন আবার উপস্থাপনের জন্য অনুশাসন দেয়া হয়েছে। বিকালে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। শতভাগ নিভে গেছে, এ রকম বলেননি। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কারণ, বনের আগুন স্বাভাবিক আগুন নয়। আপাতদৃষ্টে মনে হয় নিভে গেছে। কিন্তু কোনো কিছু দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। পরে হয়তো আবার জ্বলে উঠতে পারে। তাই বনের আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে নিভে যাওয়ার ঘোষণা করা যায় না। এ জন্য এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, বনের আগুন নেভানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা যায় না। এজন্য তারা এখন আগামী কয়েকদিন গভীর পর্যবেক্ষণে রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী অবহিত হওয়ার পর কার্যক্রমের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৫৫ জন কর্মী ফুল টাইম কাজ করেছেন। দেড়শর বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি এনে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি আরো বলেন, গভীর জঙ্গলে রাতে কাজ করা যায়নি। দিনে কাজ করতে হয়েছে। ঝুঁকিও ছিল। সব মিলিয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জিং টাস্ক তারা কমপ্লিট করেছেন, এজন্য তারা (ফায়ার সার্ভিস) ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের লতিফের ছিলা ও ড্রেনের ছিলার মাঝামাঝি এলাকায় আগুন লাগার বিষয়টি গত শনিবার নজরে আসে সংশ্লিষ্ট সবার। এরপর থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে বন বিভাগ, কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি), ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), টাইগার টিমসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও বনজীবীরা। তবে ঘটনাস্থল থেকে পানির উৎস দূরে হওয়ায় এবং দুর্গম পথের কারণে প্রথম দিনে সেখানে পানি ছিটানো সম্ভব হয়নি। গত রবিবার ভোর থেকে সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা নামায় এবং নদীতে ভাটার কারণে সেদিন বিকালে পানি দেয়া বন্ধ করে বন থেকে বেরিয়ে আসেন সবাই। অন্ধকার ও বনের মধ্যে ঝুঁকি বিবেচনায় রাতে কাজ বন্ধ থাকার পর আজ ভোর থেকেই আবার সবাই মিলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছেন। ১৯ বছর পর উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে : বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই চুক্তির আওতায় উজেবেকিস্তানের সঙ্গে এখন সরাসরি বিমান চলাচল কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৯৩ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। ২০০৫ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুনভাবে শুরু করার জন্য উজবেকিস্তানের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। দুই পক্ষ মিলে এই খসড়া করেছে। চুক্তির আওতায় ‘ফিফথ ফ্রিডম’ পাব। ‘ফিফথ ফ্রিডম’ হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় দেশে বিমান নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে যাত্রী তোলা যাবে। প্রতœসম্পদ আইনে পরিমার্জনের নির্দেশনা : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৮৬ সালের একটি আইনকে পরিবর্তন করে বাংলায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশের দেশে যত প্রতœসম্পদ আছে সেগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা, সংরক্ষণ করা, সেগুলোর হস্তান্তর ও নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়গুলো সেখানে আছে। নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির বিষয়ও আছে। মাহবুব হোসেন আরো বলেন, জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমি আইন-২০২৪ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। আগের আইনকে পরিবর্তন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন এই আইন করতে চেয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ২৩ জুলাই জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস পালন করা হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ছিল। এটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আলোচনার পর মন্ত্রণালয় এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শ্যামলকে শপথ পাঠ করালেন প্রধানমন্ত্রী : লালমনিরহাট জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক শ্যামলকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন জানান, শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের জনগণের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি পরিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল বিজয়ী হন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App