×

শেষের পাতা

২০ মিনিটে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গায়, চলবে না বাইক, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান

শিগগিরই খুলছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিগগিরই খুলছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ ফুট প্রস্থের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি এখন দৃশ্যমান। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও যান চলাচলের জন্য শিগগিরই এটি খুলে দেয়া হবে। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৪ লেনের মধ্যে দুই লেন পুরোপুরি প্রস্তুত। বাকি দুই লেনে চলছে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপনসহ নানা ধরনের ফিনিশিং কাজ। মূলত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে মহানগরীর লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। অথচ এখন সড়ক ধরে ভয়াবহ যানজট পেরিয়ে এটুকু পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ফলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসপাড়ায় আসতে জনসাধারণকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া ফ্লাইট মিসের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। ভোগান্তি হ্রাস এবং পুরো মহানগরীকে যানজট থেকে রক্ষায় এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের ১৪ নভেম্বর এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে এর নামকরণ করা হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ টাকা। চালু করা হলেও এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পেতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চার লেনের দুটি সড়কের একপাশ পুরোপুরি প্রস্তুত। আরেক পাশের কাজ কিছুটা বাকি আছে। বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক পোল। তাতে লাগানো হবে বাতি। তবে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্পিড ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়নি। এদিকে এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরুর আগেই এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে কিছু মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ও চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সি-বিচ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখন দৃশ্যমান। এটিতে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি র‌্যাম্প নির্মাণাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে যানবাহনের টোলের হার অনুমোদন দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ যান চলাচল শুরু হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি আরো বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা রাখা হয়েছে ৬০ কিলোমিটার। এখানে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে স্পিড ক্যামেরা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করবে। নির্ধারিত গতির চেয়ে যারা কম বা বেশি চালাবে সেসব যানবাহনকে অটোমেটিক স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হবে। চউক সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের টোলের হার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলাচল করলে কার ১০০ টাকা, জিপ ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা, বাস ৩০০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ২০০ টাকা করে টোল দিতে হবে। তবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলবে না মোটরসাইকেল, ট্রাক (৬ চাকা) এবং কাভার্ডভ্যান। চউকের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন্ শামস্ বলেন, শিগগিরই যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বর্তমানে এটিতে পোল লাগানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। আগে বহদ্দারহাট থেকে দুই-তিন ঘণ্টা লাগত পতেঙ্গায় যেতে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে এখন মাত্র ২০ মিনিটে যাওয়া যাবে। এটি চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। তিনি আরো বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করলে যানবাহনে নির্ধারিত হারে টোল দিতে হবে। এখানে টোল নেয়ার জন্য ১৪টি টোল বুথ থাকবে। প্রাথমিকভাবে পতেঙ্গা প্রান্তে চারটি টোল বুথ থাকবে। র‌্যাম্প নির্মাণের পর বাকি টোল বুথ বসানো হবে। টেন্ডারের মাধ্যমে এ টোল আদায়ের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এখনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। শুরুর দিকে এই এক্সপ্রেসওয়েতে ২৪টি র‌্যাম্প থাকার কথা থাকলেও এখন হবে ১৫টি। বর্তমানে দুটি র‌্যাম্প নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। বাকি র‌্যাম্পের কাজ উদ্বোধনের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ টাকা করা হয়। চউকের এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‌্যাংকিন। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে, ৫৪ ফুট প্রস্থ এবং চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৫টি র‌্যাম্পের মধ্যে জিইসি মোড়ে একটি, টাইগারপাসে দুটি, আগ্রাবাদে চারটি, ফকিরহাটে একটি, নিমতলায় দুটি, সিইপিজেডে দুটি, সিমেন্ট ক্রসিং মোড়ে একটি এবং কেইপিজেড এলাকায় দুটি থাকবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App