×

শেষের পাতা

সম্পাদক পরিষদের আলোচনাসভা

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
কাগজ প্রতিবেদক : গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন পত্রিকার সম্পাদকরা। পাশাপাশি গণমাধ্যমে পেশিশক্তির হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি, আক্রমণ, তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ও পেশার প্রতিবন্ধকতা রোধ এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্র সহজ করারও দাবি জানানো হয়েছে। পরিবেশ সাংবাদিকতার ক্ষেত্র অবাধ ও নিরাপদ করতেও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ‘গ্রহের জন্য গণমাধ্যম : পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৪ উপলক্ষে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ। সম্পাদক পরিষদের সাবেক সভাপতি ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ হানিফের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক একে আজাদ, সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান ও পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দখল-দূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে আলোকপাত করেন ডেইলি স্টারের সাংবাদিক পিনাকী রায়। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) চলে গেছে বললেও এ আইনে এখনো অনেকে জেল খাটছেন। এটা সামঞ্জস্য নয়। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে (সিএসএ) কিছু ভীতিকর বিষয় আছে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, ডিএসএ চলে গেছে; কিন্তু এখনো ৯টি আইন আছে। যারা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রভাবান্বিত করে। এছাড়া অনেক আইন আছে, এর মধ্যে সাংবাদিকদের সহায়ক কোনো আইন নেই। তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহফুজ আনাম বলেন, একটা আইন হোক, না হয় অন্তত একটি দাপ্তরিক বিবৃতি দেন যাতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বা পরিবেশের ওপর তথ্যভিত্তিক রিপোর্টের জন্য ওই সাংবাদিককে কেউ আঘাত করতে না পারে। যারা পরিবেশকে খেয়ে নিচ্ছে তারা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে শুধু পরিবেশ বিষয়ে রিপোর্ট করলে আমার বিরুদ্ধে অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা অন্তত পরিবেশ সাংবাদিকতা করে দেশের বিরাট উন্নয়নের একটি সহায়ক শক্তি হয়ে কাজ করতে চাই। পরিবেশ সাংবাদিকতায় সরকার সব ধরনের সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিক। আামাদের দায়িত্ব থাকবে সেটা তথ্যভিত্তিক হবে এবং কারো প্রতি আক্রোশের ভিত্তিতে রিপোর্ট করা হবে না। ফিলিস্তিনে সাংবাদিকদের প্রতি সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে একাত্মতা জানান তিনি। নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, পাঠক যে সংবাদ চায়, তা প্রকাশ করতে পারি না। কেন পারি না? একটি রিপোর্টের জন্য তথ্য প্রাপ্তি ঘটনা টেনে তিনি বলেন, পেশিশক্তির হস্তক্ষেপে অনেক সময় সংবাদ প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের হত্যা করা হচ্ছে। পরিবেশ নিয়ে রিপোর্ট করায় একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। মফস্বলের সাংবাদিকদের অবস্থা আরো খারাপ। প্রভাবশালীদের সঙ্গে আপস করে তাদের সাংবাদিকতা করতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৪৫১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ৯৭ জন। এ ধরনের আইন প্রভাবশালীদের অপতৎপরতাকে সুরক্ষা দেয়। অথচ সাংবাদিকদের সুরক্ষার কোনো আইন নেই। এ অবস্থায় সাংবাদিকদের একটি অংশ সেলফ সেন্সরশিপে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে চান। আমার প্রশ্ন হলো- সাংবাদিকতা কী অপরাধ? জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধান এবং তা প্রকাশ করতে কেন তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন? তিনি বলেন, দেশে ৯টি আইন তো আছেই, আরো ৩টি আইন চূড়ান্ত খসড়া হিসেবে রয়েছে। এছাড়া প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের খসড়া গণমাধ্যমের কাউকে দেখতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় দুর্নীতি বাড়ছে। এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় থাকছে না, তাই জবাবদিহিও মিলছে না। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, ব্যাংক ধসের সময় এ ধরনের পদক্ষেপ ব্যাংক লোপাটকারীদের উৎসাহিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশ বিষয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি ফৌজদারি বিধিমালা না করে প্রেস কাউন্সিলেই করার কথা। এজন্য প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা দরকার। কিন্তু উল্টো সংস্থাটিকে প্রায় অকার্যকর করে রাখা হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের দূরত্ব বাড়ছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের প্রতি তিন মাস পর পর বৈঠক করতে পারলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, পরিবেশ বিষয়ে গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। গণমাধ্যম রোল প্লে করছে। কিন্তু সংকট অন্য জায়গায়। তা হলো- দেশের পরিবেশ ধ্বংসকারীদের অনেকেই গণমাধ্যমের মালিক। বাস্তবতা এটাই, আমরা স্বীকার করি আর না করি। ঢাকার চারপাশে যারা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, যাদের বিরুদ্ধে বেলা লড়ছে তারা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের মালিক। তিনি বলেন, যারা পরিবেশ ধ্বংস করছে তারা অনেকেই আইন প্রণেতা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। কারা নদী দখল-দূষণ করছে, ঢাকার চারপাশে ভরাট করছে, সবাই তা জানে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে কতটুকু সফল হবে? পরিবেশ সুরক্ষায় অনেক চ্যালেঞ্জ। শ্যামল দত্ত বলেন, জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বড় দেশগুলো অঙ্গীকার করলেও তারা তা পূরণ বা বাস্তবায়ন করে না। বিষয়টি গণমাধ্যমই বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। তিনি বলেন, আরেকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা হলো পরিবশে রক্ষা করবে, না উন্নয়ন করবে- তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে। আমাদের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশে কোনটা অগ্রাধিকার পাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ান হাসান বিভিন্ন নদী দখল-দূষণ ও নদীর বালুকাটা, জাহাজ শিল্পসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে বলেন, মানচিত্র রক্ষা করতে হলে পরিবেশ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সব পেশাজীবীর মধ্যে যেমন অবক্ষয় আছে, তেমনি সাংবাদিতায়ও অবক্ষয় আছে। তবুও এখনো শেষ ভরসা গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশে এখনো মূল্যবোধকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা রয়েছে। গ্রহ রক্ষায় বিশ্বের সাংবাদিকদের মতো আমাদের সাংবাদিকরাও অনেক কাজ করছেন। আরো বেশি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা ও উন্নতমানের রিপোর্টিং দরকার। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, আজকে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে। এর জন্য প্রধানত দায়ী উন্নত বিশ্ব। এর প্রধান ভুক্তভোগী যারা হতে যাচ্ছে এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ একটি লিডারশিপ রোল নিয়েছে ভুক্তভোগীদের পক্ষে। সরকারিভাবে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে যে, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকতাকে আমরা প্রণোদনা, উৎসাহ, সমর্থন ও সুরক্ষা দিতে চাই। এখানে কোনো বিরোধের জায়গা আমি দেখি না। তবে হ্যাঁ, ক্ষেত্রবিশেষে তৃণমূলে বিভিন্ন ধরনের ব্যত্যয় ঘটে। সেই ব্যত্যয়গুলোকে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা তুলে ধরবেন। সরকারের অবস্থান পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষে। তিনি বলেন, শুধু পরিবেশ সুরক্ষা নয়, মুক্ত গণমাধ্যম, গণমাধ্যমের সুরক্ষা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা- এসব বিষয়েও আমাদের অঙ্গীকার আছে এবং থাকবে। তবে রাজনীতিতে যেমন অনেক ক্ষেত্রে অপরাজনীতি আছে, বিভিন্ন পেশায় যেমন কিছু নেতিবাচক দিক আছে, তেমন তথ্যের সঙ্গেও আমরা অপতথ্যের বিস্মৃতি অনেক সময় দেখি। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও আমরা অপসাংবাদিকতা আমরা দেখি। এটি শুধু আমি বলছি না, আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরাও বলেন। মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, নোয়াব সভাপতি বলেছেন যে মফস্বলে সাংবাদিকতা কঠিন। আমি একমত। ঢাকায় অনেক প্রোটেকশন পাওয়া যায়, মফস্বলে পাওয়া যায় না। সেটা নিশ্চিতে আমরা কাজ করব। একই সঙ্গে সেখানে আবার অপসাংবাদিকতার চর্চা অনেক হয়, পেশাদারিত্বের অভাব দেখা যায়। যেটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে পেশাদার সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় কোনো ধরনের শৃঙ্খলা ও আইনকানুন নেই। সাংবাদিক বন্ধুরাই বলছেন, এখানে শৃঙ্খলা আনা দরকার। তবে আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম যত মুক্ত হবে, তার স্বাধীনতা যত চর্চা করবে এবং অপতথ্যের বিপরীতে যত তথ্যের প্রবাহ বাড়বে ততই সমাজে গুজব, অপপ্রচার এগুলো রোধ হবে। আমি মনে করি, সরকারের মধ্যে সেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাও তৈরি হবে। আমরা (সরকার) মনে করি, গণমাধ্যম এবং পেশাদার সাংবাদিকতা আমাদের বন্ধু। তারা আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা ফেরেস্তা নই। ভুল-ব্যর্থতা থাকতে পারে। সেসব সমস্যা আমাদের চোখে পড়ে না, সেটি তারা দেখিয়ে দেন এবং আমরা সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারি। তিনি বলেন, আনরেজিস্ট্রার্ড অনলাইন বন্ধ করে দেব। তবে যারা আবেদন করছে তাদেরগুলো চালু রাখা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন নিয়েও নানা কথা আছে। আমি আইনটি নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করব। সব সাংবাদিক সংগঠনের দুজন প্রতিনিধি নিয়ে বসে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট আমি পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্বাস করি। এর অধীনে কোনো গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে যে তথ্য চাইবে সেটা আমি তড়িৎ গতিতে দিতে বাধ্য থাকব। এ ধরনের মানসিকতা তৈরি করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা ওরিয়েন্টেশন করব। কারণ তথ্য দিলে আমার কোনো সমস্যা নেই তো। একই সঙ্গে বলতে চাই যেগুলো সংবেদনশীল তথ্য, যেগুলো প্রাইভেসি অ্যাক্টের মধ্যে পড়ে, এগুলো যদি কেউ চুরি করে প্রকাশ করার চেষ্টা করে, সে চোর। তার কোনো পেশা আমরা দেখব না। এই ধরনের আইন সব দেশে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব তথ্য দিতে হবে যেগুলো মানুষের জানার অধিকার আছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখবে। কাজেই একটি সিস্টেম করতে হবে যেন সব তথ্য তারা জানাতে পারে, আবার সংবেদনশীল তথ্যের প্রটেকশনটাও রাখা জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App