×

শেষের পাতা

দেশের সব স্কুল-কলেজে পুরোদমে ক্লাস শুরু আজ

দেড় বছর পর শনিবারও খোলা থাকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে কয়েক দফা বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার থেকে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরোদমে ক্লাস শুরু হচ্ছে। গতকাল শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ক্লাস শুরু হচ্ছে আজ। এর আগে তাপপ্রবাহের কারণে গত ২০ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। রমজান-ঈদের দীর্ঘ ছুটি এবং তাপপ্রবাহের ওই সাত দিনের ছুটি শেষে ২৮ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছিল। একদিন ক্লাসের পরই কয়েকটি জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে দেড় বছর পর গতকাল শনিবার থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠদান। তবে তাপদাহের কারণে সারাদেশের ২৫টি জেলায় মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ থাকায় সেখানে ক্লাস হয়নি। বাকি জেলাগুলোর কোথাও স্কুল ছিল খোলা আবার কোথাও ছিল বন্ধ। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, শনিবারে ক্লাস করিয়ে কতটুকু লাভ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বলেছেন, একেক সময় একে সিদ্ধান্তে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি বলতে শুধু শুক্রবার ছিল। বৃহস্পতিবার ছিল হাফ স্কুল। অর্থাৎ দুপুরে স্কুল ছুটি হয়ে যেত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি নতুন শিক্ষাক্রমের কর্মঘণ্টা হিসেব করে জানান, ২০২৩ সাল থেকে সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও শনিবার স্কুল ছুটি থাকবে। এরপর থেকে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কিন্তু রমজানসহ বেশ কয়েকটি পর্বে স্কুল বন্ধের পর তাপপ্রবাহের কারণে আরো ১০ দিনের বেশি স্কুল বন্ধ থাকে। এতে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই শিখন ঘাটতি পোষাতে সাময়িকভাবে শনিবার ক্লাস নেয়া হবে এবং গতকাল থেকে তা শুরু হয়েছে। তবে শনিবার স্কুল খোলা রাখায় সন্তুষ্ট নন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, সরকার শিখন ঘাটতির কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি নেই। গত ২৬ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-অপপ্রচার হয়েছে। বছরের ৫২টি শনিবার রয়েছে। সেখানে যদি কয়েকদিন খোলা রেখে রমজানের সময় বিদ্যালয় বন্ধ দেয়া যায়, তাহলে বিতর্ক থাকবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ১০ কর্মদিবসের শিখন ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে শনিবার ক্লাস খোলা রাখা হয়েছে। তবে, এ সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। এদিকে শনিবার স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তষ্টি প্রকাশ করে মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বিপ্লব বলেন, তাপপ্রবাহের কারণে যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে, সেটা আমরা রমজানে পূরণ করেছি। দুদিন ছুটি থাকা শিক্ষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নেতারা জানান, কোনো দুর্যোগ শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী সৃষ্ট নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ হতেই পারে, আগেও হয়েছে। সে কারণে নির্ধারিত ছুটি কমিয়ে দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক চিকিৎসা নেয়া, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো, আচার-অনুষ্ঠান ও বিশ্রামসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। ছুটিছাটা নিয়ে আচমকা সিদ্ধান্ত নেয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ফলশ্রæতিতে সামাজিক, শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, শিখন ঘাটতি পূরণ করতে গত বছরের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরে রমজানের ছুটি কমানো হয়েছে- যা মোটেই সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। এসব সিদ্ধান্ত নির্লিপ্ততারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করে তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App