×

শেষের পাতা

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান ৭ মার্চের ভাষণ রেকর্ডকারী নাসার

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান ৭ মার্চের  ভাষণ রেকর্ডকারী নাসার
কাগজ প্রতিবেদক : ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সরাসরি ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করার সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পরিচালক আশরাফুজ্জামান খান রেডিও বাংলাদেশের কর্মচারীদের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। রেসকোর্স মাঠে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) স্থাপিত মঞ্চের উপরে পরিচালক আশরাফুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আহমাদুজ্জামান এবং নাসার আহমেদ চৌধুরী থাকবেন। প্রকৌশল বিভাগ থেকে সামাদ ছিলেন। মঞ্চের নিচে শামসুল আলম, কাজী রফিক, রেডিওর ডিউটি রুমে বাহরামউদ্দিন সিদ্দিকী, সাভার প্রচার কেন্দ্রে প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারীর সঙ্গে মীর রায়হান ছিলেন। গতাকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন রেডিও বাংলাদেশের সাবেক সহকারী পরিচালক নাসার আহমেদ চৌধুরী। শারীরিক অক্ষমতার কারণে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। বাবার শেষ ইচ্ছা মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকুতি জানাতে সাগর-রুনি হলে উপস্থিত ছিলেন নাসার আহমেদের সন্তান হাসান তালাত চৌধুরী। তার মোবাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ঘটনা। কথা বলার শুরুতে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন নাসার আহমেদ। এরপর শান্ত কণ্ঠে আস্তে আস্তে বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠে ভাষণ শুরু করতে যাবেন এমন সময় রেডিওর ডিউটি রুম থেকে ইন্টারকমের মাধ্যমে বাহরাম সিদ্দিকী মঞ্চের কর্মীদের জানান যে, এইমাত্র মেজর সিদ্দিক সালেক জানিয়েছেন, কোনোমতেই শেখ মুজিবুরের ভাষণ প্রচার করা যাবে না। প্রচার করলে রেডিও উড়িয়ে দেয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ শুরু করে দিলে সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমার সঙ্গে নেয়া ছোট টেপ রেকর্ডারে রেকর্ডিং শুরু করি। দুটি টেপে সমগ্র ভাষণ রেকর্ড করে নিই। ভাষণ শেষে টেপ দুটো সাবধানে জামার ভেতরে লুকিয়ে রাখি এবং দ্রুত মঞ্চ থেকে টেপ রেকর্ডার, স্ট্যান্ড নিয়ে নিচে নেমে যাই। পরে পরিচালককে জানাই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ গোপনে সব রেকর্ড করা হয়েছে। পরিচালক বাহবা দেন। পর দিন ৮ মার্চ ভাষণটি রেডিওতে সম্প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, এই কাজের জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কর্নেল কাসেম ও তার বাহিনী আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। অনেক ধরনের হেনস্তার শিকার হয়েছি। আমাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। পরে চট্টগ্রাম থেকে চলে আসি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতারে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করেছি। ৭ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধে এই অবদানের আজো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি নাসার আহমেদ। ১৯৯৪ সাল থেকে আমেরিকা প্রবাসী ছিলেন। তাই এই বিষয়ে উদ্যোগও নিতে পারেননি। তার শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর আগে যেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিটা আসে, এটাই তার আকুতি। তৎকালীন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের নথিপত্র যাচাই-বাচাই করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেবেন- এই শেষ ইচ্ছাটুকু বুকে ধারণ করে জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছেন ৭৯ বছর বয়সি নাসার আহমেদ চৌধুরী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App