×

শেষের পাতা

ফেসবুক ‘স্টোরি’তে লালনের গান

যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাবি প্রতিনিধি : ফকির লালন সাঁইয়ের গানের দুই চরণ লিখে ফেসবুকে ‘স্টোরি’ দেয়ায় এক যুবককে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তা করায় লালনের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রজন্ম চত্বরে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ এর আয়োজনে ‘লালনের গান গাই’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী কর্মসূচি হয়। ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানের ‘সুন্নত দিলে হয় মুসলমান, নারীর তবে কী হয় বিধান’- চরণ দুটি ফেসবুকে ‘স্টোরি’ দেয়ায় যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেই গানটি দিয়েই উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় এই কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে লালনের গান, পদ পরিবেশনা, নাটক, বক্তৃতার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় লালনের ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘জাত গেলো জাত গেলো বলে’, ‘আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী’, ‘মিলন হবে কত দিনে’সহ লালনের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করা হয়। কর্মসূচিতে গান পরিবেশন করেন লালন শিল্পী এলিজা পুতুল, মুসা করিম, বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার শিল্পী রিপন শেখ, গাজি ইমরান, নয়ন সাধু। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাতিঘর, সর্বনাম গান পরিবেশন করে। মিজানুর রহমানের রচনা ও নির্দেশনায় ‘একটি সাহসী ফুল দেখা যায়’ শিরোনামে একটি পথনাটক পরিবেশন করেন থিয়েটার ৫২। নাটকটিতে বিভিন্ন সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে লালন শিল্পী, সাংস্কৃতিক শিল্পীসহ বিভিন্ন জনকে গ্রেপ্তার আটকের বিষয়গুলো দেখানো হয়। বক্তব্য দেয়ার সময় গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ লালন সাঁইজির একটি গানের দুটি চরণ ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। সেটি যদি হয় ধর্ম অবমাননা এবং এই ধর্ম অবমাননার কথা তুলে তাকে গ্রেপ্তার ও তার পরবর্তী সময়ে নানা রকম প্রেক্ষাপট তৈরি করে সারাদেশে একটি তাণ্ডব পরিচালনা করার যে আয়োজন দেখতে পাচ্ছি সেটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর। আমরা অচিরেই এই বাংলাদেশকে দেখতে পাব- বাঙালি সংস্কৃতিশূন্য, লালনশূন্য ও অন্যান্য যে বাউল সংগীত রয়েছে সেগুলোর বাইরে আমাদের চলে যেতে হচ্ছে। এ সময় নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগের অন্যতম সংগঠক ও প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, গ্রামের পর গ্রামে লালন অপদস্ত হচ্ছেন। আমরা আজকে ঢাকায় প্রতিবাদ করছি, কিন্তু লালনকে লালনের সেই গ্রামে, লালন শিল্পীদের গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা যদি বাঙালি সংস্কৃতিকে বাঁচাতে চাই তাহলে লালনের যে গ্রাম, লালনের গানের যে গ্রাম সে গ্রামের শিল্পীদের আমাদের বাঁচাতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App