×

শেষের পাতা

সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন

ঋণ পুনঃতফসিল করায় মূল্যস্ফীতি কমছে না

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ পুনঃতফসিল করায় মূল্যস্ফীতি কমছে না
কাগজ প্রতিবেদক : দেশের ঋণ খেলাপি, কর খেলাপি ও অর্থপাচার একই সূত্রে গাঁথা। ঋণ পুনঃতফসিল করার কারণে ব্যাংকে অর্থের টান পড়েছে। এজন্য বন্ডের মাধ্যমে টাকা ছাপিয়ে অর্থ সরবরাহ করতে হচ্ছে। যার ফলে মূল্যস্ফীতি কমছে না- এমন মূল্যায়ন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের। তাই শক্ত হাতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো নীতি নির্ধারকদের বোঝানোর মতো একটা লোক প্রয়োজন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সাবেক এই গভর্নর বলেন, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ছাড়া টাকা ছাপানো বন্ধ করা কঠিন। এছাড়া এক কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের বিমা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। ইআরএফ সম্পাদক আবুল কাশেমের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা। সাবেক এ গভর্নর বলেন, আমি মনে করি, ৩-৬ মাসের স্বল্পমেয়াদি আমানতের সব বাধা দূর হওয়া উচিত। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আমাদের দেশেও একই অবস্থা ছিল। পরে চাপের মুখে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া হয়। আমরা এখন স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিচ্ছি। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে যাওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এ গভর্নর। তিনি বলেন, খেলাপি ওয়ালারা যদি অনেক বড় হয়ে যায় তাহলে সমস্যা। ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ নিয়ে খেলাপি হলে তাকে জেলে ঢোকাব, কিন্তু ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হলে তাকে সালাম ঠুকবো, এটা হতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ঋণগুলো অবশ্যই আদায় করা উচিত। ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, সবাই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। কিন্তু কেউ অনেক বেশি, আবার কেউ একেবারেই কম। আগের তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অবক্ষয় হয়েছে- সেটার সঙ্গে আমি একমত। কেন যেন অর্থ পাচারের ব্যাপারে সরকার এবং ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ) নীরব। কিন্তু এটা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক প্রশ্নের জবাবে ফরাসউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের অবদান যারা বুঝে না তারা বাস্তববাদী নয়। এর আগেও ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এবারও হবে বলে আমার মনে হয় না। ধনী-গরিবের বৈষম্য আগেও ছিল, এখনো রয়েছে। তবে ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থের পার্থক্য আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। এই বৈষম্য কমাতে শুধু অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে ঋণের প্রবাহ কম উল্লেখ করে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, আমানতের একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চল থেকে আদায় করা হয়, তারপরও ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে ৮০ শতাংশ ঋণ দেয়া হয়। তিনি বলেন, একাধিক বিনিময় হার খুবই আপত্তিকর একটি বিষয়। এতে শুধু মধ্যস্থতাকারীরাই লাভবান হয়। যারা বিনিময় হার নিয়ে আলোচনা করছেন, তাদের আগেই বলেছি, বিনিময় হারকে অতিমূল্যায়িত রাখা ঠিক নয়। প্রতিবেশী ভারত ধারাবাহিকভাবে তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে, আমরা সেভাবে এটা করিনি। বাংলাদেশের মতো দেশে মুদ্রার অতিমূল্যায়ন ক্ষতিকর। তিনি বলেন, অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি কমাতে পেরেছে। আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আমাদের মনিটরিংয়ে ফোকাস করতে হবে। আমদানিকারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে টানা ১০ মাস ধরে মুদ্রাস্ফীতি খুব বেশি ছিল। জোর করে কোনো দুর্বল ব্যাংককে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করলেই সেই ব্যাংক সবল হয়ে যাবে না জানিয়ে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, একীভূত বিষয়টা নতুন নয়। এটি বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তবে এক ব্যাংকের সঙ্গে অন্য ব্যাংককে জোর করে একীভূত করে খারাপ ব্যাংককে ভালো করা যাবে না। একীভূত বা টেকওভার হতে পারে। তবে কোনো কিছুই জোর করা ঠিক হবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App