×

শেষের পাতা

সমন্বিত উন্নয়ন চায় নগরবাসী

চসিক চউক প্রধানের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 চসিক চউক প্রধানের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার
চট্টগ্রাম অফিস : বন্দরনগরীর প্রধান দুই উন্নয়ন সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের রেষারেষি ভুলে সংস্থা দুটির প্রধান চট্টগ্রামের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে এটি যেন শুধু অঙ্গীকার আর ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর ভূমিকা রাখে সেটিই দেখতে চান নগরবাসী। গত বুধবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও চউকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ পরস্পরকে অভিননন্দিত করে বুকে জড়িয়ে ধরে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবার চট্টগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার দায়িত্ব ও সুযোগ পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই গত বুধবার তাদের এই অঙ্গীকারে চট্টগ্রামবাসী কিছুটা আশাবাদী পরিকল্পিত-সমন্বিত উন্নয়নে। কারণ, এর আগে চসিক ও চউক এর প্রধান হিসেবে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্ষমতার দ্ব›দ্ব একে অপরকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে দোষারোপ চলত প্রতিনিয়ত। ফলে চট্টগ্রামের অনেক কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সমন্বয়হীনতার কারণে বিলম্বিত হয়েছে ও হচ্ছে। আর এর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং হচ্ছে চট্টগ্রামবাসীকে। এবার উভয় নেতা যদি আন্তরিকভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করেন তাহলে সে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন নগরবাসীসহ চট্টগ্রামের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকালে জাপান থেকে ঢাকা হয়ে বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। বিমানবন্দরে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন চউক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ। মেয়র আসছেন জানতে পেরে তিনি ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে থাকেন। ১০ মিনিট পর আরেকটি বিমানে আসেন মেয়র। চউক চেয়ারম্যান মেয়রকে স্বাগত জানাতে রানওয়ে পর্যন্ত এগিয়ে যান। মেয়রকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। মেয়রও তাকে বুকে টেনে নেন। এ সময় সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সিটি করপোরেশন এবং চউককে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হলে প্রতিষ্ঠান দুটির সমন্বয়ের বিকল্প নেই। চউক যে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তা যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় এলে নগরীর মশাও কমবে। চউকের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ায় একযোগে কাজ করব। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীন করতে দুজন একসঙ্গে লড়েছি। এবার আমাদের লড়াই চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার।’ চউকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখব। সিটি করপোরেশন এবং চউকের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না, সমন্বয়হীনতা থাকবে না। আমরা দীর্ঘসময় রাজপথে একত্রে লড়েছি। দুজনের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম এগিয়ে যাবে।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন এবং কাউন্সিলর ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজিম রনি, নিছার উদ্দিন আহমেদ, শাহেদ ইকবাল বাবু, আবদুস সালাম মাসুম, আবুল হাসনাত বেলাল, নুরুল আলম মিয়া, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, পুলক খাস্তগীর, এসরারুল হক, আতাউল্লা চৌধুরী ও মোহাম্মদ ইলিয়াস। উল্লেখ্য, এর আগে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই চট্টগ্রামের এ দুটি প্রধান উন্নয়ন সংস্থার প্রধানদের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ, বাগবিতণ্ডা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে চরম বিরোধিতা চলে আসছিল। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব-মন্ত্রীরা পর্যন্ত তাদের এই কোন্দলে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে এবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছকে নিয়োগ দেয়ায় এই বিরোধিতা অনেকটা কমে আসবে বলেই আশা করছে নগরবাসী। কারণ, উভয়েই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও তিন তিনবারের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App