×

শেষের পাতা

স্বস্তির বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে ৫ জেলায় প্রাণ গেল ৮ জনের

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : সারাদেশের তীব্র তাপপ্রবাহের পর গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এলেও বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৩ জন, কক্সবাজারে ২ জন এবং খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও সিলেটে ১ জন করে রয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- রাঙামাটি : শহরের সিলেটিপাড়া ও বাঘাইছড়ি উপজেলার রুপাকারী ইউনিয়ন ও সাজেকের লংথিয়ান পাড়ায় বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- রাঙামাটি শহরের সিলেটিপাড়ার বাসিন্দা মো. নজির আহমেদ (৫০), বাঘাইছড়ি উপজেলার রুপাকারী ইউনিয়নের মুসলিম ব্লকের বাসিন্দা বাহারজান বেগম (৫৫) ও সাজেক ইউনিয়নের বেটলিং মৌজার লংথিয়ান পাড়ার বাসিন্দা তনিবালা ত্রিপুরা গৃহিণী (৩৭)। জানা গেছে, রাঙ্গামাটি শহরসংলগ্ন সিলেটিপাড়া এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে বরশি দিয়ে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন নজির আহাম্মেদ (৫০) নামের এক ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যাসমিন চাকমা জানান, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লকের বাসিন্দা লাল মিয়ার স্ত্রী বাহারজান বেগম গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। এ সময় একটি ছাগলও মারা যায়। অন্যদিকে সাজেক ইউনিয়নের বেটলিং মৌজার লংথিয়ান পাড়ার বাসিন্দা তনিবালা ত্রিপুরা গৃহিণী (৩৭) ঘরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শওকত আকবর খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার জানান, অনেক দিন পর বৃহস্পাতিবার সকালে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হয়। এতে বাহারজান বেগম ও সাজেকে তনিবালা ত্রিপুরা নামে দুইজন নিহত হন। নিহতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চকরিয়া (কক্সবাজার) : চকরিয়া ও পেকুয়ায় হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় বজ্রপাতে দুই লবণচাষি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোদাইল্লারদিয়া মো. জমির উদ্দিনের ছেলে লবণচাষি মো. দিদার (৩৪), একই উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের চড়িপাড়ার জামাল হোসাইনের ছেলে মো. আরাফাত হোসাইন (২৫)। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ও সঙ্গে ব্যাপক বজ্রপাতও হয়। এ সময় লবণচাষি দিদার লবণ মাঠে যায় লবণের উপর পলিথিন ঢেকে দিতে। এতে বজ্রপাতে তিনি মারা যান। রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল জানান, ভোরের দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত শুরু হলে বাবা জামাল হোসাইনের সঙ্গে লবণ মাঠে যায় আরাফাত। এ সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার সময় মারা যান। খাগড়াছড়ি : জেলার মাটিরাঙ্গায় ঝোড়ো বাতাসে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে ইয়াছিন আরাফাত (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ইয়াছিন আরাফাত বড়নাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহিমপাড়ার বাসিন্দা ইউসুফ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী বলেন, সকালের দিকে বজ্রাঘাতে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারকে প্রশাসনিক সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিলেট : কানাইঘাটে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে বাবুল আহমদ (৪৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও দুই কৃষক গুরুতর আহত হন। দুপুরের দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের শফিক হাওরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত বাবুল কানাইঘটের দক্ষিণ কুয়রের মাটি এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। এ সময় বজ্রাঘাতে ঝলসে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বাবুলের ভাতিজা ফাহিম আহমদ (১৭) এবং মানিকপুর গ্রামের বাবু বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস (২০)। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী জানান, বজ্রাঘাতে মারা যাওয়া বাবুল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। চান্দিনা (কুমিল্লা) : বিকাল ৫টায় উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের কিছমত-শ্রীমন্তপুর গ্রামে দৌলতুর রহমান (৪৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত দৌলতুর রহমান ওই গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা মন্দির মিয়া জানান, ধান ক্ষেতে ওষুধ ছিটানোর সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে ছিটানোর মেশিন জমির কাছে রেখে বাড়িতে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর ওই মেশিনটি আনতে গেলে বজ্রপাতে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোরশেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে ঘটনাটি জানিয়েছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App