×

শেষের পাতা

আইবিসির সভায় বক্তারা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি একটি ‘ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল হোমোসাইড’

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি একটি ‘ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল হোমোসাইড’
কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকার সাভারে ১১ বছর আগে ঘটে যাওয়া রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি একটি ‘ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল হোমোসাইড’ (নরহত্যা)। কিন্তু এতদিনেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। আহতদের পুনর্বাসন করা হয়নি। তাদের বেশির ভাগই কাজে ফিরতে পারেনি। ফলে ওই ঘটনায় হতাহতদের পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘রানা প্লাজার শ্রমিক হত্যার ১১ বছর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। এ সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি, নিহতদের স্বজন ও আহতদের চিকিৎসা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। সভার আয়োজন করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- ইন্ডাস্ট্রিয়াল গেøাবাল ইউনিয়নের রিজিওনাল সেক্রেটারি আশুতোষ ভট্টাচার্য। আইবিসির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিনে সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আইবিসির সাবেক সভাপতি আমিরুল হক আমির, শ্রমিক নেতা জেড এম কামরুল আনাম, রুহুল আমিন, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, মীর আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। আশুতোষ ভট্টাচার্য বলেন, রানা প্লাজা ধস নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা একটি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমোসাইড’। দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস ট্র্যাজেডি। ১১ বছর পার হয়ে গেল, অথচ এখনো দোষীদের বিচার হয়নি। তিনি আরো বলেন, পোশাক খাতের মাত্র ৭ শতাংশ শ্রমিক সংগঠিত। শ্রমিকদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আমিরুল হক আমির বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে আড়াই হাজার শ্রমিক আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোকে এত বছরেও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। আহতদের পুনর্বাসন হয়নি। তাদের বেশির ভাগ কাজে ফিরতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত রানাসহ জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। দোষীদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ৮তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এই বহুতল ভবনে পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানায় পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের (আইএলও) হিসাব মতে, ওই ঘটনায় ১ হাজার ১৩২ জন নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন পোশাক শ্রমিক। আহত অবস্থায় উদ্ধার হন প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই পঙ্গু হয়েছেন। এই ঘটনাটিকে বিশ্বের ভয়াবহতম ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়ে থাকে। যার প্রভাবে সে সময় বাংলাদেশে শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App