×

শেষের পাতা

চুয়েট ৯ মে পর্যন্ত বন্ধ

আন্দোলন স্থগিত শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারবেন

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আপাতত আবাসিক হলে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৯ মে পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গতকাল শুক্রবার চুয়েট এর সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর চলমান আন্দোলন স্থগিত করে চুয়েট এর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি পূরণের আশ্বাসও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী ২০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ও হল ত্যাগের নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেয় চুয়েট প্রশাসন। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই চুয়েট শিক্ষার্থীর প্রাণহানির জের ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। এদিকে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা চুয়েটের মূল ফটকের সামনে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এরপর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। বৈঠক শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসচালককে গ্রেপ্তারের দাবি পূরণ হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তহবিল গঠন করবে, যেখানে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক প্রশস্ত করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তারা। এসব দাবি পূরণ কিংবা আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাশেদ পারভেজ ভোরের কাগজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেছে। আজ (শুক্রবার) সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আপাতত আবাসিক হলে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামী ৯ মে পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে চুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে চুয়েটের পরীক্ষাসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে ছাত্রদের বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে ও ছাত্রীদের শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ঘোষণার পর টানা চার দিন ধরে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বরে থাকা ও মূল ফটকে রাখা শাহ আমানত পরিবহনের দুটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া বিকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় উপাচার্য, সহউপাচার্য ও রেজিস্ট্রার প্রায় দুই ঘণ্টা ওই ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রশাসন। সেখান থেকে আপাতত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার ২২ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সেলিমা কাদের কলেজ গেট এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে শান্ত সাহা ও তৌফিক হোসেন নামে চুয়েট এর দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহত শান্ত সাহা পুরকৌশল বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদীর কাজল সাহার ছেলে। অন্যজন তৌফিক হোসেন একই বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নোয়াখালীর সুধারামের নিউ কলেজ রোডের মোহাম্মদ দেলোয়ারের ছেলে। দুর্ঘটনায় পুরকৌশল বিভাগের ২১ ব্যাচের জাকারিয়া হিমু নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই চুয়েট ক্যাম্পাস এলাকার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলার সময় শিক্ষার্থীরা বাসেও আগুন দেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App