×

শেষের পাতা

নিউইয়র্কে শ্যামল দত্ত

জটিল পরিস্থিতিতেও স্বপ্ন দেখছি সোনালি সূর্যের

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জটিল পরিস্থিতিতেও স্বপ্ন দেখছি সোনালি সূর্যের
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্র সফররত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেছেন, ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ সেখানে সব পত্রিকা মিলিয়েও ২০ লাখ সার্কুলেশন নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার আগ্রাসী তৎপরতায় চরম সংকট চলছে। এমন সংকটের মধ্যে গণমাধ্যমের বিকাশ একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। নিউইয়র্কে গত মঙ্গলবার আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব (এবিপিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার হাল-হকিকত প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি এ কথা বলেন। শ্যামল দত্ত বলেন, আমি হলফ করে বলতে পারি আগামী ১০ অথবা ১৫ বছর পর কেউ পত্রিকা পড়বে না। এখনই পড়ে না। একইভাবে টেলিভিশনও আগামী ২০ বছর পর কেউ দেখবে না। এখনই দেখে না আমাদের সন্তান, আপনাদের নাতি-পুতিরা। তাদের জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন যে, কেউই টিভি দেখে না। এ অবস্থাতেও তারা আপডেটেড। সব ইনফরমেশন তারা পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, খবর, খবরের পেছনের খবর, যেটার প্রতি সবার অসম্ভব আকর্ষণ, একটি পত্রিকা হাতে নিয়ে, এক কাপ চা নিয়ে দিন শুরু না করলে তো অনেকের দিনই শুরু হয় না। সেই আবেগটা আর থাকছে না। পাঠ একেবারেই নেই। বইপত্র পড়ে না বললেই চলে। বই পড়ায় আজকের প্রজন্মের উদাসীনতা প্রসঙ্গে শ্যামল দত্ত বলেন, আমি মাঝে-মধ্যে বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে থাকি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছে, ভাইভায় তাদের যখন জিজ্ঞাসা করি গত তিন মাসে পড়েছ এমন একটি বইয়ের নাম বল- একজনও বলতে পারে না। অনেকে চালাকি করে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র নাম বলে। তারা মনে করে সেই বইয়ের নাম বললে আমরা হয়তো তাকে অনুকম্পা প্রদর্শন করব, সদয় হব। সেই প্রার্থীর কাছে যখন জানতে চাই যে, বঙ্গবন্ধু ওখানে কী কী বই পড়তেন, সেই নামগুলো বল তো? তখন আর বলতে পারে না। এজন্য তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। মেধা আর মননের জায়গাটি, পড়াশোনার জায়গাটি এতটাই সংকুচিত হয়েছে। তিনি বলেন, এটা তো রাষ্ট্রের দর্শন হতে হবে যে, রাষ্ট্র একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করবে। এর ঘাটতি যখন থাকে, তখন কিন্তু এ ধরনের এলোমেলো হয়ে যায়। গণতন্ত্রের ধারক-বাহক এবং মানবাধিকারের ছবকদাতা দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রের সা¤প্রতিক আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শ্যামল দত্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের সিম্বল অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে দাবি করা হয়, সেই দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের প্রতিবাদে শামিল হওয়ায় তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের পর ঢালাওভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল এই নিউইয়র্কে। বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া ভার্সিটির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েক ঘণ্টা আগে। ছাত্রত্ব বাতিলের পর তাদের ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়েছিল আবাসিক হল ত্যাগের। আইন আছে, আপনি যখন ছাত্র থাকবেন না, তখন হবেন বহিরাগত। সেই অনুযায়ী গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে শামিল হওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী দেশ, যারা বলে যে এটি হচ্ছে গণতন্ত্রের সিম্বল অব দ্য ওয়ার্ল্ড, তাদের দেশে এগুলো ঘটছে। আর অন্য দেশের অবস্থা কী হবে এবার বোঝেন। সুতরাং, এমন একটি ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে (জটিল পরিস্থিতিতে) রয়েছে আজকের বিশ্ব। এতসব কিছুর মধ্যেও ভবিষ্যতের সোনালি সূর্যের স্বপ্ন তো দেখতেই হবে। না হলে বাঁচা যাবে না। হতাশায় মানুষ তো বাঁচে না। আমরা তো আশাবাদী জাতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশটা একদিন আপনাদের স্বপ্নের দেশ হবে। কেননা, আপনাদের স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। আপনাদের স্বপ্ন ছিল একটি অসা¤প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সেটি আসবে- তা বিশ্বাস করি। হয়তো সময় লাগবে। তারই অনুসঙ্গ হিসেবে, অনুগামী হিসেবে থাকবে গণমাধ্যম। কীভাবে থাকবে সেই ধারণা এখন করতে পারছি না। কারণ, ৩০ বছর আগে আমি যখন সাংবাদিকতা শুরু করি তখন ভাবতেই পারিনি যে গণমাধ্যমের চেহারাটা আজকের মতো হবে। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখিকা-সাংবাদিক নাজমুননেসা পিয়ারি এবং যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ। শুভেচ্ছা জানান নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেলের পক্ষে হেড অব চ্যান্সেরি ইশরাত জাহান। সবাইকেই নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত এবিপিসির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এবিপিসির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। সাধারণ সম্পাদক শাহ ফারুক রহমানের সঞ্চালনায় জ্যাকসন হাইটসে শেফ মহলের মিলনায়তনে এ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন রেজাউল বারি, আবুল বাশার চুন্নু এবং শামসুল আলম চৌধুরী। বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের উচ্চশিক্ষায় সার্বিক সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দ্য অপ্টিমিস্ট’-এর প্রেসিডেন্ট মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, উত্তর আমেরিকায় বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনকারী প্রতিষ্ঠান ‘শো-টাইম’-এর কর্ণধার আলমগীর খান আলমসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App