×

শেষের পাতা

ফের বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

চুয়েটের ২ শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া সেই বাসচালক গ্রেপ্তার

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া শাহ আমানত বাসের চালক মো. তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. তাজুল ইসলাম (৪৯), রাউজান থানার চিকদাইর এলাকার করম আলী হাজীর বাড়ির আবদুল খলিলের ছেলে। চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত বাসচালককে নগরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে নগরের দুই নম্বর গেট চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খানকে প্রধান করে সাত সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান মেহেবুব, বিআরটিসির সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থি, রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী ও রাউজান থানার ওসি জাহেদ হোসেন। এদিকে বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে চুয়েটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ওই সড়ক দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে সব ধরনের জিনিসপত্র আনা-নেয়া বন্ধ ছিল। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাইসহ এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, নিহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাস মালিক সমিতি ২ লাখ টাকা করে দেয়ার কথা বলেছে। এটা লজ্জাজনক। শাহ আমানত ও এ বি ট্রাভেলসের বাস এ সড়কে চলবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন, কিন্তু রুট পারমিট বাতিল করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৫টি বাস ও ৪টি অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার দাবিও পূরণ হয়নি। সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাব। চুয়েটের রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তবে বেশ কিছু দাবি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। সেজন্য সময় দরকার। গত ২২ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সেলিমা কাদের কলেজ গেট এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে শান্ত সাহা ও তৌফিক হোসেন নামে চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহত শান্ত সাহা পুরকৌশল বিভাগের ’২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নরসিংদীর কাজল সাহার ছেলে। তৌফিক হোসেন একই বিভাগের ’২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নোয়াখালীর সুধারামের নিউ কলেজ রোডের মোহাম্মদ দেলোয়ারের ছেলে। দুর্ঘটনায় পুরকৌশল বিভাগের ২১ ব্যাচের জাকারিয়া হিমু নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে এভারকেয়ারে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই চুয়েট ক্যাম্পাস এলাকার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App