×

শেষের পাতা

বৈশাখী মেলা শুরু

জব্বারের বলীখেলা আজ

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৫তম আসর বসছে আজ বৃহস্পতিবার। নগরীর লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ আব্দুল জব্বারের এই বলীখেলা। বলীখেলা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। লালদীঘি মাঠসহ প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজিত এ বৈশাখী মেলায় এরই মধ্যে দোকানিরা বসছে গ্রামীণ লোকজ রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে এ মেলা। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ এ বৈশাখী মেলাকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন চট্টগ্রামবাসী। মেলা শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গৃহস্থালি ও লোকজ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। গতকাল বুধবার দুপুরে মেলায় ঘুরে দেখা যায়, লালদীঘির মাঠসহ প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে দোকানিরা বসেছেন রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে। কী নেই এই বৈশাখী মেলায়। ঘরদোর পরিষ্কার রাখার ফুলঝাড়ু, রসুইঘর থেকে শুরু করে ড্রইংরুম সাজানো-গোছানোর নানা চটকদার জিনিসপত্র, হাতপাখা, শীতল পাটি, মাটির কলস থেকে শুরু করে চুড়ি ফিতা, রঙিন সুতা, হাতের কাঁকন, নাকের নোলক, মাটির ব্যাংক, খেলনা, ঢোল, বাঁশি, বাঁশ ও বেতের নানা তৈজসপত্র, কাঠের পুতুল, নকশীকাঁথা, মাছ ধরার চাঁই, বেতের তৈরি চালুনি, মাটির তৈরি পুতুল, মাটির তৈরি খেলনা, ফুলদানি, তালপাখা, টব, হাঁড়ি-পাতিল, কুলা, গাছের চারা, দা-বটি, নানারকম বৈশাখী ফল, ঘর সাজাবার উপকরণ, নিত্যব্যবহার্য সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। মেলায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এসেছে মাটির তৈরি সরঞ্জাম। মাটির তৈরি ঘর সাজানোর বিভিন্ন ধরনের আসবাব, সৌখিন জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনা পুতুল ইত্যাদি। এ ছাড়া ফলের বীজ, গাছের চারা, ডালা, কুলা, আঁড়ি, তামা ও কাঁসার তৈজসপত্র, দা-বঁটি, খুন্তি, বেলুনি, পিঁড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই রয়েছে। কাঠের তৈরি খাট, আলমিরা, আলনাসহ আরও নানা আসবাবপত্র নিয়েও বসেছেন কয়েকজন দোকানি। মেলায় মুড়ি-মুড়কির দোকানসহ রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। এদিকে নগরীর বলীখেলা ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে যানজটের আশঙ্কা করছে নগর পুলিশ। যানবাহনের চাপ সামলাতে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে কয়েকটি দ্বিমুখী সড়কের একপাশ পুরোপুরি যানবাহনমুক্ত রাখার ঘোষণা এসেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপি’র ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লালদীঘি আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা উপলক্ষে লোকজনের সমাগম এবং গাড়ি ডাইভারশনের কারণে এ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে। এলাকার সড়কসমূহে স্বাভাবিক চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রী সাধারণকে জরুরি প্রয়োজনে এই এলাকার সড়ক এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরার্মশ দেয়া হয়েছে। লালদীঘির পূর্বপাশে সড়কের জেল গেটের সামনে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন তরুণ মৃৎশিল্পী সুবোধ পাল। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, এ মেলার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি। গত ছয় মাস ধরে মাটির জিনিস তৈরি করে মেলায় আসার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতি বছর বিক্রি ভালো হয়, এবারও ভালো হবে বলে আশা করি। প্রসঙ্গত, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে বদরপাতির আব্দুল জব্বার সওদাগর নগরীর লালদীঘি মাঠে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। পরে যা আব্দুল জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিত ও বৈশাখী মেলায় পরিণত হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২ বৈশাখ জব্বারের বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ বৈশাখের দুই-তিন দিন আগে থেকে লালদীঘির মাঠ ও আশপাশের এলাকা নানা গ্রামীণ ও হাতে তৈরি পণ্যে ভরে ওঠে। তিন দিনের মেলা হলেও সপ্তাহব্যাপী নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে চলে বিকিকিনি। জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অহংকারে পরিণত হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App