×

শেষের পাতা

পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু খাতে ৫৩৪ বিলিয়ন ডলার দরকার

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু খাতে ৫৩৪ বিলিয়ন  ডলার দরকার
কাগজ প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ৫৩৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে জানালেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ৫৩৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তাই জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য। বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ন্যাপ এক্সপো ২০২৪-এর হাই-লেভেল ট্রান্সফরমেশনাল ডায়ালগ : এ ট্রান্সফর্মড ন্যাপ ফর দ্য ফিউচার শীর্ষক অধিবেশনে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ উপস্থাপন করেন। এছাড়া অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসিসি) নির্বাহী সেক্রেটারি সাইমন স্টিল, ফিলিপাইন ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিশন প্রেসিডেন্ট অফিসের পরিচালক রবার্ট ই এ বোর্জে প্রমুখ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা আর এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে বিপদ বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ মাত্র শূন্য দশমিক চার আট শতাংশ। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা আর এক ডিগ্রি বাড়লে তা আমাদের জন্য বিপদ বাড়াবে, জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির খরচ বেড়ে যাবে। সুতরাং সবকিছুকে জলবায়ু পরিবর্তনের লেন্সে দেখতে হবে। আর্থিক রিটার্নের ক্ষেত্রে অভিযোজনকে ন্যায্যতা দেয়া কঠিন। মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য বিশ্বব্যাপী সংহতি জরুরি। অভিযোজন শুধু স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ নয় বরং এটি আমাদের সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কাজ করতে হবে। তবে বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের বহুবিধ প্রভাব- জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বেড়ে চলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ফ্রিকোয়েন্সি, বন্যা, খাদ্য নিরাপত্তা, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বহুবিধ প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তা মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী সাবের চৌধুরী বলেন, দক্ষিণে ও উত্তরে হিন্দুকুশ হিমালয়ের বর্ধিত হিমবাহ, জলের চাপ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো বিপুল চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞ ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবেই দেখেন না, নিজেকে সমাধান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একজন নেতা ও চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও দেখেন। উল্লেখ্য, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলন ন্যাপ এক্সপো-২০২৪ উদ্বোধন করেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App