×

শেষের পাতা

শত কোটি টাকা আত্মসাৎ

পি কে হালদারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দুদকের

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পি কে হালদারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দুদকের
কাগজ প্রতিবেদক : এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ ও দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়। যে কোনো সময় আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের এমডি অমিতাভ অধিকারী ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর ২৯ কোটি টাকা ঋণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পর কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ২৫ অক্টোবর ২৩২তম বোর্ড সভায় ঋণ মঞ্জুর করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে বেনামী প্রতিষ্ঠান আনান কেমিক্যালের নামে ৬৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করা হয়- যা ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সুদসহ ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৭১৯ টাকা দাঁড়ায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনান কেমিক্যালের নামে যে টাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে নেয়া হয়েছে সেটি আত্মসাৎ ও পাচারে পি কে হালদারসহ ২৩ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অসৎ উদ্দেশ্যে আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকদের ঋণ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। এর আগে ২০২১ সালে পাঁচটি ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে তা আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ তুলে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি রাশেদুল হক, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবেদ হাসান ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরী গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপরাধলব্ধ ও আতœসাতকৃত অর্থ বিভিন্ন লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পিকে হালদার সিন্ডিকেটের ভুয়া কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে আতœসাৎ ও পাচার করার কথাও জানান তারা। ২০২৩ সালে অর্থ পাচারের অভিযোগে পি কে হালদারকে ২২ বছরের সাজা দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। এ আগে ২০২২ সালের ১৪ জুন পি কে হালদারকে তার চার সহযোগীসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অর্থসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। বর্তমানে পি কে হালদার ভারতে কারাবন্দি আছেন। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারসহ একাধিক মামলায় সেখানে তার বিচার চলছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App