×

শেষের পাতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই প্রস্তুত বাংলাদেশ

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই প্রস্তুত বাংলাদেশ
কাগজ প্রতিবেদক : যে কোনো বহিঃশত্রæর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু যে কোনো আগ্রাসী বহিঃশত্রæর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের হালিশহরে আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন শেষে ভাষণে একথা বলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সেনা সদস্যরা দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে তাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সক্ষম হব। আওয়ামী লীগ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে হতে হবে তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন, স্মার্ট। সরকারপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা যেন করা যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আজকাল যুদ্ধটা ডিজিটাল পদ্ধতিতেও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে, সব ধরনের আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন উচ্চ প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠুক, সেটাই আমাদের কাম্য। তিনি বলেন, আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক বিমান, হেলিকপ্টার, ইউএভি, চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক, আধুনিক এপিসি, ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল ও অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম। দেশের কল্যাণে সেনাবাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির আস্থার প্রতীক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মিশনে আমাদের সৈনিকদের সামর্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সম্প্রতি অত্যাধুনিক লাইট আর্মাড ভেহিক্যাল ও মাইন রেসিস্ট্যান্ট অ্যাম্বুস প্রটেক্টেড ভেহিকেল সংযোজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে হয়। আমি চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা কখনো পিছিয়ে থাকবে না। সব রকম আধুনিক প্রশিক্ষণ তাদের দিতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনী সারাবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে। পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং অনুশীলন-প্রশিক্ষণ, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনী তখনই যুদ্ধে জয়ী হতে পারে, যখন তাদের ওপর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস থাকে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ৯৬ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছিল আমাদের কাছে, কারণ জনসমর্থন তাদের ছিল না। কাজেই জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বিরাট বিষয় আমাদের জন্য। আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কেউ ক্ষুণ্ন করুক, তা আমরা চাই না। আমরা বন্ধুত্ব নিয়ে চলতে চাই। তবে আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যা যা করণীয়, সেটা আমাদের ‘জান’ কবুল হয়, আমরা তা করব। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। আমরা সবসময় ফিলিস্তিনিদের পাশে আছি, থাকব। সহায়তা অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও গণহত্যার প্রতিবাদ করে যাব। উদ্বোধন শেষে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স’ এ স্থাপিত আর্টিলারি জাদুঘর পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। জাদুঘরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব ব্যাটারির প্রথম গোলাবর্ষণকারী ঐতিহাসিক তিন দশমিক সাত ইঞ্চি হাউইটজার, আর্টিলারি রেজিমেন্টে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সকল কামানের প্রতিরূপ এবং মুক্তিযুদ্ধে গোলন্দাজ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অপারেশনগুলোর গৌরবময় ইতিহাসের বিভিন্ন প্রমাণ পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন পদবির অফিসার, জেসিও, অন্যান্য পদবির সেনা সদস্য এবং মিডিয়া ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App