×

শেষের পাতা

রাউজানে প্রতিমা ভাঙচুর

১৫ বছর পর গ্রেপ্তার দুই আসামি কারাগারে

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

১৫ বছর পর গ্রেপ্তার দুই আসামি কারাগারে
চট্টগ্রাম অফিস : প্রায় ১৫ বছর আগে চট্টগ্রামের রাউজানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশানুযায়ী আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। আসামিরা হলেন- পশ্চিম রাউজানের হাজি মো. নুরুল আমিনের ছেলে নেজাম উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন। রাউজান থানা পুলিশ ও চট্টগ্রাম আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রবিউল আউয়াল দুর্গা প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা ভাঙচুরের দায়ে ৫ আসামির বিরুদ্ধে দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন। অবশ্য সেই আদেশ প্রচার করা হয় গত ৩ মার্চ। দন্ডিত আসামিরা হলেন- নুরুল আমিন, বেদার মিয়া, কামাল উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন। এছাড়া মো. রুবেল ও মহিউদ্দিন মুন্না নামে দুজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। তবে রাউজান এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার আসামি বেদার মিয়া এলাকার একটি শীলপাড়ায় নানাভাবে তাদের অত্যাচার-নির্যাতন করতেন, যার ফলে ওই শীল পাড়ার অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। আর বেদার মিয়া ও সাঙ্গপাঙ্গরা সেসব জায়গা-জমি সম্পত্তি দখল করেছেন। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নুরুল আমিন ও বেদার মিয়া ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামি কামাল উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। মামলার রায় ও দীর্ঘদিন পর দুই আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার বাদী প্রয়াত অমলেন্দু বণিকের ছেলে রানা প্রতাপ বণিক ভোরের কাগজকে বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, পুলিশে চাকরি করেছেন। প্রচণ্ড সাহসী ছিলেন। আমাদের এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটির কিছু লোকের অত্যাচার- নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার বাবা ছয় কানি সম্পত্তি মন্দিরে দান করে দেন। অপরদিকে যার (অরুণ ধর) বাড়ির সামনে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে, তিনি আসামিদের নানা ধরনের অত্যাচার-হুমকির কারণে বাড়ি-ভিটা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জেনেছি। তবে দুঃখের বিষয় ২০১৬ সালে আমার বাবা মারা যান, তিনি রায় ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখে যেতে পারেননি। আজ বাবা বেঁচে থাকলে মনে কিছুটা শান্তি পেতেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাউজান উপজেলার পশ্চিম রাউজান ইউনিয়নের কেউটিয়া গ্রামে গত ২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু বণিক বাদী হয়ে সে বছরই ১ অক্টোবর রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সাতজনকে আসামি করা হয়েছিল। সেই মামলার অভিযোগ বলা হয়েছে, তারা (অমলেন্দু বণিক) পূর্বপুরুষের আমল থেকে কেউটিয়া গ্রামের বণিকপাড়ায় রাধাকৃঞ্চ মাধবানন্দ সেবাশ্রম মন্দিরের পাশে সার্বজনীনভাবে দুর্গাপূজা করে আসছিলেন। আসামিরা ২০০৫ সাল থেকে তাদের বণিকপাড়া থেকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদের জন্য বাড়ি-ভিটা দখলের উদ্দেশে বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করে আসছিলেন। বেদার মিয়া ও নুরুল আমিনের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে আসামিরা বণিকপাড়ার পুকুরে নারীরা ¯œান করার সময়ের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করতেন। শুধু তাই নয়, আসামিরা ২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে বণিকপাড়া পুকুরপাড়ে গিয়ে দুর্গাপূজা না করার জন্য হুমকি দেন। বিকালে অমলেন্দু বণিক ও তার ছেলে রানা প্রতাপ পূজার বাজার করে ফেরার পথে তাদের রিকশা আটকে গালিগালাজ করেন। ওই রাতেই আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি ডাক্তার অরুণ ধরের বাড়ির বারান্দায় রাখা পূজার জন্য বানানো দুর্গা, ল²ী, সরস্বতীসহ একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের করেন। জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হরিরঞ্জন নাথ জানান, অমলেন্দু বণিকের দায়ের করা মামলা সিআইডির তদন্ত, চার্জশিট প্রদান ও দীর্ঘদিন বিভিন্ন আদালতে মামলার শুনানি শেষে রায় দেয়া হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App