×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

ইষ্টিকুটুম

নকশিকথা

Icon

কমলেশ রায়

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নকশিকথা

মা, হাঁচির সময় আমাদের দুচোখ বন্ধ হয়ে যায়। তুমি কি এটা জানো?

জানি। তুমি কোথা থেকে জানলে?

পত্রিকা পড়ে।

দেখেছো, এ জন্যই বলি, প্রতিদিন পত্রিকা পড়বে। অনেক কিছু শিখতে পারবে।

আচ্ছা, পড়ব।

আর কথা নয় মিতি। এবার মন দিয়ে নাশতাটা করো।

নাশতা করতে হয় মুখ দিয়ে। মন দিয়ে নয় মা।

বাজে বকো না। তাড়াতাড়ি শেষ করো।

তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি মা?

বলেছি না, আর কথা নয়। চুপ করে খাও।

একটা কথা মা, প্লিজ।

আচ্ছা বলো।

বলো তো, সকালের নাশতায় কোন দুটো জিনিস তুমি কোনোভাবেই খেতে পারবে না?

জানি না। সবই তো খাওয়া যাবে। না খেতে পারার কী আছে?

হি-হি-হি। পারলে না তো?

বললাম তো, জানি না।

দুপুুরের আর রাতের খাবার। লাঞ্চ ও ডিনার।

ঠিক মতো নাশতা করো। না হলে তোমার লাঞ্চ আর ডিনার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মা, তুমি এত সুন্দর গোল করে রুটি বানানো কার কাছ থেকে শিখেছো?

তোমার বড়দির কাছ থেকে।

সাবার বড়দি মানে ওর দাদি কী করেছেন, জানো?

কী করেছেন?

উনি এই প্রথম প্লেনে চড়ে ঢাকায় এসেছেন। সাবা জিজ্ঞেস করেছে, দাদি প্লেন ভ্রমণ কেমন হলো? জবাবে উনি কী বলেছেন জানো?

কী বলেছেন?

বলেছেন, সবই ভালো। তবে একটা মহিলা সেজেগুজে কানের কাছে শুধু ‘টিয়া পাখি’ ‘টিয়া পাখি’ করেছে।

তার মানে?

আরে বুঝলে না, এয়ার হোস্টেস এসে ‘টি অর কফি’ জিজ্ঞেস করেছেন, আর উনি শুনেছেন টিয়া পাখি। সাবার মুখে এ গল্প শুনে আমাদের ক্লাসের সবার সে কী হাসি। হি-হি-হি।

বয়স্কদের নিয়ে এভাবে হাসতে হয় না। তোমরা তো নিজেদের ভীষণ চালাক মনে করো। কিন্তু জানো তো, অতি চালাকের গলায় দড়ি।

তার মানে গরু আর ছাগল অতি চালাক।

বাজে বকো না। খাও।

বকা তো দেন টিচাররা। তুমিও দাও।

বকার কথা বলিনি। তুমি বকবক করছো, সেটার কথা বলেছি।

বকবক। পর পর দুটো বক। আচ্ছা মা, বক তো কথা বলতে পারে না। তাহলে ওদের নাম নিয়ে কেন বলা হয় বকবক করো না।

পাকামো করো না। এবার মুখ বুজে খাও।

মুখ বুজে মানে মুখ বন্ধ করে কী খাওয়া যায় মা?

আচ্ছা, তাহলে মুখ খুলে খাও।

ঠিক আছে, মুখ খুলছি। বকের সঙ্গে আমার একটা মিল আছে। কী সেটা, জানো?

না, জানি না।

বক মাছ খেতে পছন্দ করে। আমিও মাছ খেতে পছন্দ করি। হি-হি-হি।

এটা নিয়ে হাসার কী হলো?

হাসছি অন্য কারণে।

কী কারণ?

মজার একটা ঘটনা ঘটেছে।

কী ঘটনা?

ঘটনাটা ঘটিয়েছে সাবার ছোট বোন সারা। ও কী করেছে জানো?

কী করেছে?

টিচার নাকি ওকে জিজ্ঞেস করেছেন, মাছ কোথায় থাকে? সারা ঝটপট বলেছে, ফ্রিজে থাকে স্যার। হি-হি-হি।

হাসির কী হলো! ছোট্ট একটা মেয়ে, সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ওকে কিন্তু তুমি এটা নিয়ে কখনো কিছু বলবে না।

আমি বলি না। সাবা বলে। আর সারা ভীষণ লজ্জা পায়।

সাবাকেও বলতে না করবে। কাউকে লজ্জায় ফেলা মোটেও উচিত নয়।

আচ্ছা, লজ্জায় ফেলব না। লজ্জায় রেখে দেব। হি-হি-হি।

ফের দুষ্টুমি। সব কিছু নিয়ে দুষ্টুমি করা ভালো না।

দুষ্টুমি অন্যের জন্য হানিকর। দুষ্টুমি থেকে বিরত থাকুন। টিং ডিং।

তোমার টিভি দেখা কমাতে হবে।

সঠিক করে বলো মা। বলো বিজ্ঞাপন দেখা কমাতে হবে।

উফ! এই মেয়েকে নিয়ে আর পারা যায় না। মাথাটা ব্যথা করে দেয়।

সরি মা। তুমি রেগে যেও না প্লিজ। রাগলে তুমি ঘামতে থাকো। ফ্যান ছেড়ে দেব?

তোমাকে আর ফ্যান ছাড়তে হবে না। তুমি দয়া করে খাওয়াটা শেষ করো। বারান্দায় রোদ এসে গেছে। আমি কাপড়গুলো নেড়ে দিয়ে আসি।

কাপড় নাড়া মানে কি কাপড় শুকাতে দেওয়া মা?

হ্যাঁ।

তবে যে তুমি আমাকে বলো, এই মেয়ে কুটোটাও নাড়তে চায় না। এক নাড়ার কত অর্থ।

একটা শব্দের অনেক অর্থ হতে পারে। ব্যবহারের ওপর সেটা নির্ভর করে।

আচ্ছা মা, রোদ সবকিছু শুকাতে পারে। কিন্তু ঘাম শুকাতে পারে না কেন?

মানুষের ঘাম বলে কথা। তাই ঘাম শুকাতে রোদ নয়, বাতাস লাগে।

ঠিক বলেছো মা। ঘেমে যাওয়ার আগেই আমি খাওয়া শেষ করছি। হি-হি-হি।

পাকনা মেয়ে একটা। ফ্যান ছেড়ে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি খেয়ে ওঠো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App