×

ইষ্টিকুটুম

বাদুড় কেন নিশাচর

Icon

হাসান হাফিজ

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাদুড় কেন নিশাচর
এক সময় বাদুড় ছিল বেশ দাপুটে প্রাণী। নিজেকে নিয়ে অনেক অহঙ্কারও ছিল তার। একদিন সে উড়ে উড়ে এক জঙ্গলে চলে এলো। বাহ, দারুণ জায়গা তো। এই বনটা খুবই পছন্দ হলো বাদুড়ের। নতুন, চমৎকার একটা পরিবেশে মনটা তার খুবই খুশি। আপনমনে জোরে জোরে বলছে সে, কী সুন্দর জায়গা। আহ, সব আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এই বন হবে শুধুই আমার। এখানকার সব জীবজন্তুকে আমি মেরে ফেলব। তারপর গোটা বনটাই হবে আমার একলার। কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী থাকবে না তখন। এই কথাটা শুনে ফেলল সজারু। শুনে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। একছুটে সে চলে গেল হাতির কাছে। খবরটা জানাল হাতিকে। শুনে হাতিও মহাচিন্তিত। ভয় পেল বেশ। দুজনে মিলে সোজা চলে গেল সিংহের গুহায়। তাকে পুরো বিষয়টি জানানো হলো। শুনে সিংহের কপাল কুঁচকে যায়। আঁতকে উঠে ভাবে সে, সর্বনাশ। এই দৈত্যকে উচিত শিক্ষা দিতে হয়। না হলে বনের আরাম-শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে চিরদিনের মতো। কিছু একটা করতে হয়। যা করতে হবে, খুব তাড়াতাড়ি। দেরি করলে বিপদ বাড়বে। পরের দিন সব জীবজন্তু এক সভায় বসল। সবাই ভীষণ উদ্বিগ্ন। বিরাট সমস্যা হয়েছে। ভিনদেশি শয়তান বাদুড়টাকে কীভাবে ঠেকানো যায়? তার একটা বিহিত করা লাগে। ভেবেচিন্তে শেয়াল এক বুদ্ধি দেয়। বলে, ওই দস্যিটার চোখজোড়া ফুটো করে দিতে হবে। যেন সে ভালোমতো দেখতে না পায়। এক কাজ করো দেখি। ভোজের একটা আয়োজন করো। ওই বদমাশ বাদুড়কেও সেখানে দাওয়াত দাও। যা করবার সজারু করবে। ওর গায়ে ধারালো কাঁটা আছে। সেটাই অস্ত্র। কী সজারু, এই কাজটা করতে পারবে না তুমি? সজারু মাথা নাড়ে। পারবে সে। পারতেই হবে। তাই করা হলো। প্ল্যান মতো। মজার মজার খানাদানার আয়োজন করা হয়েছে। অতিথি হিসেবে সেখানে এসেছে বাদুড়। যখন সে খানাপিনায় ব্যস্ত, হঠাৎই সজারু হামলা শুরু করল তার ওপর। দুই চোখে ধারালো কাঁটা বিঁধিয়ে দিল। বাদুড় হতবাক। পড়িমরি করে ছুটে গেল সে। কোনোমতে পালিয়ে বাঁচল। কিন্তু হায়! এর মধ্যে তার চোখের বেশ ভালো রকমের ক্ষতি হয়ে গেছে। পুরো অন্ধ সে হয়নি। কবিরাজ লতাপাতা বেটে ওষুধ দিল। ওষুধ কিছুটা কাজ করেছে। বাদুড় এখন আর আগের মতো স্পষ্ট দেখতে পায় না। সহ্য করতে পারে না দিনের আলো। একদমই না। রাতের অন্ধকারে আবছা আবছা দেখতে পায়। ওই ঘটনার পর থেকে দিনের বেলায় বাদুড় আর বাইরে বের হয় না। খুব অস্বস্তি হয় যে, সে কারণে। ফলে বনের জীবজন্তুরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App