×

গ্যালারি

রূপকথার নায়ক হোসেলু

Icon

ফরহাদ শাকিব

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 রূপকথার নায়ক হোসেলু
হোসে লুইস মাটো সেন্টমার্টিন, যিনি সাধারণত ‘হোসেলু’ নামে পরিচিত। হোসেলু জার্মানির স্টুটগার্টে ১৯৯০ সালের ২৭ মার্চ জন্ম নেয়া এক পেশাদার ফুটবলার, যিনি লা লিগায় স্পেনের ক্লাব ইস্পানোল থেকে লোন ডিলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। এছাড়া স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তিনি। ফুটবল ক্যারিয়ারে তেমন একটা কীর্তি গড়তে পারেননি হোসেলু, তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে যা করলেন তাতে দর্শকদের হৃদয়ে লম্বা সময়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি। তিন মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইতিহাস গড়ে দলকে পৌঁছে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের নায়ক ৩৪ বছর বয়সি হোসেলুর গল্পটা রোমাঞ্চে ভরা! গত দুই মৌসুমে যে দুই ক্লাবের হয়ে তিনি খেলেছেন, দুটি ক্লাবই অবনমিত হয়ে গেছে লা লিগা থেকে। আগেই বলা হয়েছে এবার রিয়াল মাদ্রিদে তিনি এসেছেন স্রেফ এক মৌসুমের জন্য ধারে। সেই তিনিই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খাদের কিনারায় থাকা দলকে নাটকীয়ভাবে পৌঁছে দিলেন কাক্সিক্ষত ঠিকানায়। দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়া দল থেকে এসে এই ৩৪ বছর বয়সি স্ট্রাইকার রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের স্মরণীয় জয়ের নায়ক বনে গেছেন। দুই বছর আগেও ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের দর্শকদের সারিতে আর তার ঠিক দুই বছর পরে দর্শক সারি থেকে মাদ্রিস্তা শিবিরে যোগ দেয়া জার্মান বংশোদ্ভূত স্পেনের এই স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে লিগের ফাইনালে উঠে গেছেন কার্লো আনচেলেত্তির শিষ্যরা। ১২ বছর আগে রিয়ালের একটি ম্যাচ দেখার সময় আর দশজন ভক্তের মতোই একটা টুইট করেছিলেন। ‘কারো কাছে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখার ভালো একটা লিংক হবে?’ এমন একটা টুইট করার সময় হোসেলু কি স্বপ্নেও ভেবেছিলেন, এই ক্লাবের জার্সিতেই একদিন তার ম্যাচ দেখতে অজস্র ভক্ত লিংক চাইবে? ১২ বছর বয়সে সেল্টা ডি ভিগোর অ্যাকাডেমিতে পা রাখেন হোসেলু। সেখানেই ফুটবলে হাতেখড়ি হয় তার। এই ক্লাবের হয়েই ১৮ বছর বয়সে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৯ সালে হোসেলু চলে আসেন রিয়াল মাদ্রিদে। শুরুতে খেলেন মাদ্রিদের ‘বি’ দলে। যেটা পরিচিত ছিল কাস্তিয়া নামে। ২০১০-১১ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। তাতে ২০১১ সালে মাদ্রিদের মূল দলে অভিষেক হয় হোসেলুর। করিম বেনজেমার বদলি হিসেবে নেমে একটি ম্যাচে শেষ ১০ মিনিটে মাঠে নামেন এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্রস থেকে গোলও পেয়ে যান তিনি। রিয়ালের ‘বি’ দলের হয়ে পরের মৌসুমেও ২৬ গোল করেন তিনি। কিন্তু তখন তারকায় ঠাসা মাদ্রিদের মূল দলে জায়গা পাওয়া তার জন্য ছিল দুষ্কর। তাই ২০১২ সালে তিনি পাড়ি জমান বুন্দেসলিগায়। খেলেন হফেনহাইম, আইনট্রাখট ফ্র্যাঙ্কফুর্ট ও হ্যানোভারে। তিন বছর পরে ২০১৫ সালে চলে যান ইংলিশ ক্লাব স্টোক সিটিতে। তবে স্থির হতে পারেননি সেখানেও। স্টোক সিটিতে নিজেকে প্রমাণ করতে গিয়ে হয়েছেন ব্যর্থ। স্টো সিটির ঠাণ্ডায় জমে আর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে ম্যাচের পর নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। যে কারণে ইংলিশ ক্লাবটিতে তিনি সেরাটাই দিতে চেয়েও দিতে পারেননি। উল্টো এরপর ক্যারিয়ার ধারা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। চলতি মৌসুমে রিয়ালের প্রত্যাবর্তন হয়েছে ধারের খেলোয়াড় হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সি এই তারকা মূলত এস্পানিয়লের ফরওয়ার্ড। রিয়াল শিবির থেকে কারিম বেনজেমার মতো তারকা খেলোয়াড় চলে যাওয়ায় রিয়াল কোচ আনচেলেত্তির নজর ছিল দামে কম, মানে ভালো এমন খেলোয়াড়ের দিকে। আর সে তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন হোসেলু। এদিকে গত মৌসুমে অর্থনৈতিক দুর্দশায় থাকা এস্পানিয়ল নেমে যায় দ্বিতীয় বিভাগে। তাই নামমাত্র মূল্যে এক মৌসুমের জন্য তাকে ধারে নিতে রিয়ালের প্রস্তাব ফেরানো দলটির জন্য ছিল অসম্ভব। তাতেই স্বপ্নের ক্লাবে আবারো পা পড়ল হোসেলুর। আর ইতালিয়ান কোচের আস্থার প্রতিদান তিনি দিলেন বড় মঞ্চে এসে। জ্বলে উঠে কাঁপিয়ে দিলেন মাঠ। অথচ ঠিক দুই বছর আগে বার্নাব্যুর গ্যালারিতে ছিলেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App