×

প্রথম পাতা

পথে পথে অবরোধ পথে পথে ভোগান্তি

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পথে পথে অবরোধ পথে পথে ভোগান্তি

কাগজ প্রতিবেদক : কোটা আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা। সারাদিন অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল যাতায়াতব্যবস্থা। বাসসহ অন্য যানবাহন প্রধান সড়কগুলোয় আটকা পড়ে ছিল। এর ফলে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বাড়তি চাপ পড়ে মেট্রোরেলের ওপর। যাত্রীদের চাপ সামলাতে একপর্যায়ে মতিঝিল স্টেশনে প্রবেশ ফটকে তালা দেন কর্তৃপক্ষ। অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল পাঁচ ঘণ্টা। তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড়, এলিফেন্ট রোড, শাহবাগ, হাইকোর্টের কাছে মৎস্য ভবন মোড়, হানিফ ফ্লাইওভারের নিমতলী, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, আগারগাঁও এবং মহাখালীর আমতলীতসহ বিভিন্ন স্থান অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, রামপুরা-বাড্ডা রোডসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় যান চলাচল একরকম স্থবির হয়ে যায়। ফার্মগেটে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার মুখ, জিরো পয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলো অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি দল কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবরোধ করে। তখন থেকে এই মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় পাশের এফডিসি মোড়েও। আন্দোলনকারীরা চারদিকের সড়কেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বিভিন্ন কাজে বের হওয়া মানুষ নানাভাবে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন। তবে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য যানবাহন সামনে এগোতে দেয়া হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল বিঘিœত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে। দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও রেলপথ আটকে দেয়া হয়। কারওয়ান বাজার রেলগেট ও মহাখালী রেলক্রসিংয়ে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল ৫ ঘণ্টা। কমলাপুর স্টেশনে আটকা পড়ে ১৩টি ট্রেন। ওই সময় ঢাকার বাইরে থেকেও কোনো ট্রেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারেনি।

পথে পথে অবরোধ, পথে পথে দুর্ভোগ : অন্যদিকে পথে পথে অবরোধে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট মোড় ও পল্টন মোড় অবরোধে গুলিস্তানের নুর হোসেন চত্বর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, জুরাইন, পুরান ঢাকার লোকজন ঢাকার অন্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই জিরোপয়েন্ট মোড় ব্যবহার করেন। কিন্তু চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়িগুলোকে জিরোপয়েন্টের আশপাশের সড়কে থেমে থাকতে দেখা যায়।

আগারগাঁও মোড়ের চারটি রাস্তা বন্ধ করে করে দেয়ায় মিরপুর থেকে গাড়ি আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শ্যামলী বা বিজয় সরণির দিকেও যেতে পারেনি কোনো গাড়ি। যে গাড়ি যেদিক থেকে এসেছে, সেদিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মিরপুর ও গাবতলীর পথে চলাচলের সড়কটি দিয়েও যান চলাচল ব্যাহত হয়। জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে ও গলিপথ ধরে রিকশায় যাতায়াত করেন পথচারীরা। তেজগাঁওয়ের জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসক দেখিয়ে মা সালেহা বেগমকে নিয়ে ফিরছিলেন আফরোজা বেগম। কারওয়ান বাজার এফডিসি ক্রসিংয়ে আটকা পড়েন তারা। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত যান। আফরোজা বেগম বলেন, সিএনজি এগোতে দিল না। রোদে হেঁটে আসতে মায়ের কষ্ট হয়েছে।

যানবাহন না চলার কারণে এরকম অনেকে হেঁটে গন্তব্যে যান। অনেকে যানজটে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে ছিলেন আশপাশের রাস্তায়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এনামুল হক নামের একজন বলেন, কাজের সময় এভাবে একটানা এক জায়গায় বসে আছি। বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে এখনো যানজটে আটকে আছি। এখনো জানি না কখন রাস্তা ছাড়বে। এরকম আর কতদিন চলবে?

গাড়ি না পেয়ে কামরাঙ্গীরচর থেকে পায়ে হেঁটে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন জসীম উদ্দীন। সায়েন্স ল্যাব মোড়ে দাঁড়িয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচর থেকে প্রায় ৪০ মিনিট হেঁটে ধানমন্ডিতে এলাম। অসুস্থ শরীরে হেঁটে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে। চিকিৎসকের সময় নেয়া ছিল, তাই কষ্ট করে এলাম।

সব যানবাহন ফিরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা : অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, গণমাধ্যমের গাড়ি ও চিকিৎসাপ্রার্থীসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ি ছাড়া আর সব যানবাহন ফিরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। মৎস্য ভবনের কাছে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান রুবেল বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবির জন্য আমরা অবস্থান নিয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন আমরা চলতে দেব না। আমরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাব না। কাউকে ঘটাতেও দেব না।

প্রসঙ্গত এর আগে রবিবার ও সোমবার চার দফা দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ পালন করে আন্দোলনকারীরা। ওই দুই দিনও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজটে ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App