×

প্রথম পাতা

গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ

অন্তত ৩৩ শিশুর মৃত্যু, আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ২৯

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ

কাগজ ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় গত ৯ মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং সীমান্ত অবরোধের কারণে খাদ্যসামগ্রীর প্রবেশ ও সরবরাহব্যবস্থা রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। এরই মধ্যে সেখানে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে এবং সময় যত গড়াচ্ছে, দুর্ভিক্ষও তত ছড়িয়ে পড়ছে। খাদ্যের দুষ্প্রাপ্যতা এবং এর ফলে সৃষ্ট অপুষ্টি ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত এই শিশুদের অধিকাংশই গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকার। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। খান ইউনিস শহরের কাছে এক স্কুলসংলগ্ন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দুর্ভিক্ষে শিশুদের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের প্যানেলও এই তথ্যকে সমর্থন করেছে। গত মে মাসে গাজা সফর করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মনোনীত ১১ জন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি প্যানেল। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে প্যানেলের সদস্যরা জানান, সফরের সময় তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিস এবং মধ্যাঞ্চলীয় উপশহর দেইর আল বালাহতে অপুষ্টিজনিত কারণে বেশ কয়েকজন শিশুকে মৃত ও মুমূর্ষু অবস্থায় দেখেছেন।

জাতিসংঘ প্যানেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই শিশুদের মৃত্যু গাজায় ছড়িয়ে পড়তে থাকা দুর্ভিক্ষের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। গাজার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য অধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত মিখায়েল ফাখরি জাতিসংঘ প্যানেলের এই বিবৃতিকে সমর্থন করে পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

খান ইউনিসের একটি হাসপাতালে নিজের মুমূর্ষু পুত্রসন্তানকে নিয়ে আসা ফিলিস্তিনি নারী গানিমা জোমা রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের কারণে আমি আমার সন্তানকে খাওয়াতে পারিনি। যে

পানি এখন আমরা খাচ্ছি, তা-ও দূষিত। ছেলের দিকে তাকালে কষ্ট হয়।

বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেস ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিএস) নামের একটি সংস্থা রয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এই সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে গাজায় চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন ৪ লাখ ৯৫ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা ওই উপত্যকার মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। যদি শিগগিরই ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত অবরোধ তুলে নিয়ে ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় না আনে, তাহলে এই সংকটে অচিরেই আক্রান্ত হবে আরো লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

আশ্রয় শিবিরে হামলায় নিহত ২৯ : গাজার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিস শহরের কাছের আবাসন আল-কাবিরা শহরে এক স্কুলসংলগ্ন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার খান ইউনিসের পূর্বদিকের আবাসন শহরের আল-আওদা স্কুলের গেটের পাশেই আঘাত হানে ইসরায়েলি বিমান। এই নিয়ে চার দিনের মধ্যে চতুর্থবারের মতো গাজার আরেকটি স্কুল ভবনে আঘাত হানল ইসরায়েল, যেটি একটি আশ্রয় শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার এক ব্যক্তির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। হামাসের এই যোদ্ধা গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।

এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বাহিনী আবাসন আল-কাবিরা শহর ও খান ইউনিসের পূর্বাংশ থেকে বেসামরিকদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তাদের এ নির্দেশ পাওয়ার পর ওই এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পালিয়ে যায়। গাজার বাসিন্দারা জানান, ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া, সুজাইয়া ও সাবরা এলাকার অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ে রাস্তা ও ভবনগুলোয় গোলাবর্ষণ করছে, এতে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

গাজার হামাস পরিচালিত গণমাধ্যম দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, মঙ্গলবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ হাজার ২৪০ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, গাজা শহরে তাদের যোদ্ধারা মেশিনগান, মর্টার ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা ও আহত করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App