×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

কুলি থেকে কোটিপতি বনে যান আবেদ আলী

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কুলি থেকে কোটিপতি  বনে যান আবেদ আলী

জাহাঙ্গীর আলম, মাদারীপুর থেকে : বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। এক কথায় বিষয়টি এখন দেশব্যাপী টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

মূলত সাধারণ মানুষের কাছে এতোদিন ধর্মভীরু, সুফী-সাধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন সৈয়দ আবেদ আলী। তবে এর আড়ালে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তিনি। সম্প্রতি বেরিয়ে আসে, বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযুক্ত কর্মচারীদের একজন পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবেদ আলী অন্তত ৮০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ঢাকায় তার একটি ছয় তলা বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি গাড়ি রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে রয়েছে ডুপ্লেক্স ভবন। আবেদ আলীর আরো সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা সিআইডির কর্মকর্তাদের।

আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম বেতলা গ্রামের মৃত

আব্দুর রহমান মীরের ছেলে। পশ্চিম বেতলা গ্রামের স্থানীয়রা জানান, আবেদ আলী মাত্র ৮ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান ঢাকায়। শুরু করেন কুলির কাজ। এক সময় ফুটপাতে ঘুমিয়েছেন। দিনের পর দিন কষ্ট করেছেন তিনি। এরপর গাড়ি চালানো শিখে চাকরি নেন পিএসসিতে। তারপর জড়িয়ে পড়েন পিএসসির প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে অর্জন করেন বিপুল সম্পদ, সঙ্গে ক্ষমতাও। আবেদ আলী সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়মিত চলাফেরা করতেন। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গেও উঠবস করতেন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন আবেদ আলী।

স্থানীয়রা আরো জানান, আব্দুর রহমান মীরের তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আবেদ আলী মেজ। রহমান মীরের বড় ছেলে জবেদ আলী কৃষি কাজ করেন। ছোট ছেলে সাবেদ আলী এখনো এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর আবেদ আলী এলাকায় নিজেকে শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দিতেন। এলাকার কেউ জানতই না যে, তিনি গাড়িচালকের চাকরি করতেন। ঢাকাতে রিয়েল স্টেটের ব্যবসা করতেন বলেই এলাকায় প্রচার ছিল। আবেদ আলী নিজেও দামি গাড়িতে চড়ে বেড়াতেন। এমনকি বিত্ত বৈভবে ফুলেফেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মীর পদবি পাল্টে নামের আগে সৈয়দ পদবি ব্যবহার করেন।

আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম সম্প্রতি একটি সমাবেশে বলেন, আমার বাবা ছোট থেকে বড় হয়েছে। আমার বাবার বয়স যখন ৮ বছর, তখন পেটের দায়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে কুলিগিরি করে ৫০ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এখন তিনি একটি লিমিটেড কোম্পানির মালিক। তিনি কষ্ট করে বড় হয়েছেন। এই সিয়াম ডাসার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। বাবার অপকর্মের দায়ে তাকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এলাকা ঘুরে জানা যায়, আবেদ আলী দুই হাত ভরে দান-খয়রাত করতেন। গ্রামের বাড়িতে কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির পাশে করেছেন মসজিদ। এছাড়া রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে গরুর খামার ও মার্কেট নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার পান্তাপাড়া ও পূর্ব বোতলা গ্রামে বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। স্থানীয়রা জানান, ঢাকায়ও তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। কুয়াকাটায় রয়েছে তার থ্রিস্টার হোটেল।

আবেদ আলীর ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে দেখা যায়, আবেদ আলী কখনো নামাজ আদায় করেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে, কখনো প্লেনে বসে, কখনো গাড়ির স্টিয়ারিং এ। গত কুরবানির ঈদে দামি গাড়িতে চড়ে ১০০ জনকে এক কেজি করে মাংস বণ্টন করেন তিনি। সেই ভিডিও শেয়ার করেন নিজের ফেসবুকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাসার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে গত সোমবার রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ওয়াসা রোডের নিজ ফ্ল্যাট থেকে সৈয়দ আবেদ আলী ও তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। আবেদ আলীর পরিবারের সবার ইউরোপের ভিসা রয়েছে।

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোটেক মাসুদ পারভেজ বলেন, যারা অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন করেছেন, তাদের নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন তোলা উচিত। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। প্রশ্নফাঁসের অপরাধে এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মাদারীপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত আবেদ আলীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App