×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

প্রথম পাতা

বন্যা পরিস্থিতি

পানি বেড়েছে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 পানি বেড়েছে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে

কাগজ প্রতিবেদক : কুড়িগ্রাম, জামালপুর, রাজশাহী, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলাসহ দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার নদীগুলোতে পানি বেড়েছে, প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার উপর দিয়ে। লোকালয়ে ঢুকছে পানি, তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর। ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা, জমির ফসল। দুর্ভোগে পড়ছেন এসব এলাকার মানুষ। এদিকে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বন্যা কবলিত শেরপুর, হবিগঞ্জ, রাঙ্গামাটিসহ কয়েকটি এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনো দুর্ভোগ-দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। শনিবার থেকে টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দেয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, উজানে এখন ভারি বৃষ্টিপাত আছে, তবে সিলেট অঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি হবে না আশা করা যাচ্ছে। ৭ জুলাই থেকে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ কমে এসেছে; দুয়েকদিনের মধ্যে আরো কিছুটা কমবে। তবে বৃষ্টি থাকবে। এই বৃষ্টি এই রোদ- এমন অবস্থা থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদী ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সার্বিকভাবে কমছে, এ অবস্থা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তাতে সিলেট অঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও ঘাঘট নদীসংলগ্ন কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কিছু নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

এছাড়া পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যমুনাশ্বরী, করতোয়া, বাঙ্গালী, আপার করতোয়া, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, ইছামতি-যমুনা, আত্রাই, মহানন্দা এবং ছোট যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীসংলগ্ন নি¤œাঞ্চলের বন্যার পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে এবং টাঙ্গাইল জেলার কিছু পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের নয়টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছিল। এর মধ্যে পাঁচটি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও বাকি ১৪ পয়েন্টে বাড়ছিল।

এবার জুনের শুরুতে প্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকদিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গত ১৭ জুন কুরবানির ঈদের আগের দুদিন থেকে টানা বৃষ্টিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ আশেপাশের জেলার অনেক এলাকা ডুবে যায়। উজানের ঢলে জুলাইয়ের শুরুতে নতুন করে বন্যা দেখা দেয় ওই তিন জেলায়।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।

গতকাল দুপুর ১২টায় যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যমুনার পানি দ্রুত গতিতে বাড়ায় সড়ক ভেঙে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আরো কয়েকদিন পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার এবং হাতিয়া পয়েন্ট বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপর দিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার এবং শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি সামান্য কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নদনদী তীরবর্তী চর ও নি¤œাঞ্চলের বসতভিটায় পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। অনেক পরিবার পানির মধ্যেই বসবাস করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্য নদনদীর পানি আরো ৪৮ ঘণ্টা ধরে বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অন্য নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর চরগুলোতে হঠাৎই পানি বাড়ার ফলে চরে চাষ করা নানান ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, প্রতিদিনই পদ্মার পানি বাড়ছে। গত রোববার থেকে বেশি পানি বেড়ে চলেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, উজানের ঢলে গাইবান্ধার সব নদনদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট এবং করতোয়া নদীর পানিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জ সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো জানায়, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে; যা প্রতি ঘণ্টায় দুই সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। এ অবস্থায় দুই থেকে তিন দিন পানি বাড়ার পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে। এ পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরের নি¤œাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার কিছু কিছু বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা নিরাপদে আশ্রয় নিচ্ছেন।

বানের পানিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, মদন ও সদর উপজেলায় শতাধিক গ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার আট ইউনিয়নের অন্তত ৬৮টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। নি¤œাঞ্চলের গ্রামের রাস্তা, পুকুর, ঘরবাড়ি ও বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। অতিরিক্ত ঢেউয়ে হুমকিতে রয়েছে নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়কের একাংশ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানি বেড়ে ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ দশমিক ৭৯ মিটার নিচে আছে। ওই নদীর দুর্গাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে পানি। কংস নদের পূর্বধলার জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং ধুন নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ফেনীর মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় দুই উপজেলার অন্তত চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে নতুন করে আর বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা নেই। এছাড়া পানি কমলে ভাঙন স্থলের মেরামত কাজ শুরু হবে।

বৃষ্টি না থাকায় শেরপুরের মহারশি, সোমেশ্বরী, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বাড়ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। ফলে নতুন করে শেরপুর সদরের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার যে বাঁধগুলোর ক্ষতি হয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য আমাদের কাজ শুরু হয়েছে।

বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উপজেলা সদরের ডুবে যাওয়া নি¤œাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে। তবে, বেশকিছু এলাকায় এখনো পানিবন্দি রয়েছেন বাসিন্দারা। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, বাঘাইছড়িতে বন্যায় আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App