×

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক ও কারিগরি খাতে আগ্রহ ঢাকার

ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নজর চীনের

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নজর চীনের

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা বলা হলেও মূলত আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে দেশটি। বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু করে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এই আগ্রহের বিষয়টি তাৎপর্য বহন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ৮ জুলাই চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধানের বেইজিং সফরে বেশ কিছু সমঝাতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয়পক্ষ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- গেøাবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য সহায়তা, টাকা-ইউয়ানে লেনদেন, ব্লæ-ইকোনমি, বিনিয়োগ সুরক্ষা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সমীক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, একাধিক মৈত্রী সেতু নির্মাণ ও সংস্কার, পায়রা বন্দর হাব, মানুষে মানুষে যোগাযোগ এবং চীনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির মধ্যে সহেযাগিতা। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তিনটি স্টেশনের বন্যা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক নবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর উপলক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ে গতকাল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে যেমন মজবুত করবে; তেমনি পারস্পারিক সহযোগিতা বাড়ানোসহ দুই দেশের স্বার্থে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা হবে। চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারিত্বকে আরো গভীর করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ ও বাস্তব সহযোগিতা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস, উন্নয়ন কৌশল, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। পাশাপাশি গেøাবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ এবং গেøাবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এই সফর নতুন স্তরে উন্নীত করবে বলে জানান তিনি।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে চীন মহাশক্তিধর দেশ। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিং সফরে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে যেসব পণ্য উৎপাদিত হয় তার অধিকাংশ কাঁচামালই আসে চীন থেকে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চীনের ওইভাবে নেয়ার কিছু নেই। বরং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের তরফ থেকে ভূ-রাজনীতিতে সহযোগিতার বার্তাই দেয়া হবে বলে অনেকটা নিশ্চিত। তবে ভূ-রাজনীতির বাইরেও বাংলাদেশকে চীন অর্থনৈতিক প্যাকেজসহ কারিগরি ও অবকাঠামো খাতে সহায়তা করবে।

জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক শমসের মবিন চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হচ্ছে- ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা

ঠিকঠাকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। এই সফরে ভবিষ্যতে ঢাকা ও বেইজিং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কী কাজ করবে তার একটি রূপরেখা তৈরি হতে পারে। ৪৯ বছরের বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরো গভীর হবে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন এই কূটনীতিক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে ঢাকার মূল চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি দিল্লি সফর করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার তিনি যাচ্ছেন বেইজিং। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চীন-ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দর কষাকষি চলছে। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গেও আছে অস্বস্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয় মোকাবিলা কীভাবে করেন, সেটাই দেখার বিষয়। কারণ এর ওপরই নির্ভর করছে কূটনীতির ভারসাম্য।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে ভূ-রাজনীতির আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও। গতকাল কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ডিকাব’ আয়োজিত একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, চীনের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হচ্ছে গেøাবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এবং ঢাকা এটিতে যুক্ত হলে খুশি হবে বেইজিং। তিনি বলেন, এটি সবার জন্য, বিশেষ করে গেøাবাল সাউথের জন্য উন্নয়নের একটি পথ। ৮০টিরও বেশি দেশ এই উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ জিডিআইতে যোগ দিক। আমরা যেকোনো সময় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াকে স্বাগত জানাব। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অবদান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে। ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের অবস্থান একই ধরনের এবং উভয়পক্ষ চায় বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জানান তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এবং এর ফলে দেশটি অন্যান্য দেশের প্রভাবমুক্ত জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহৎ শক্তির দ্ব›েদ্ব অনেক দেশ পক্ষ নিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আছে উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন, যেটি বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে। সেখানে বাংলাদেশ বলেছে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করে এবং এটি চীন সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। কিন্তু আরেক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যেটি কিছু পশ্চিমা দেশ অনুসরণ করে এবং সেটি হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল। আমরা দেখছি তারা জোট তৈরি করতে চাইছে এবং দ্ব›দ্ব সৃষ্টি করছে। তারা ছোট দেশগুলোকে একটি পক্ষ নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি স্নায়ুযুদ্ধ আবার ফিরে আসার মানসিকতা বলে তিনি জানান। তিনি জানান, এই ধরনের মনোভাব আমাদের পরিহার করা দরকার। আমাদের অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা বৃহৎ শক্তির দরকার নেই। আমাদের দরকার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জিডিআইতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কিনা- তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে জিডিআই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকার এক কূটনীতিক বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের গেøাবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু এটা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল হুমকি হিসেবে দেখছে বেইজিং। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিকের দেশগুলোকে অংশীদার বানাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত- এ চার দেশের জোট কোয়াড। চীনবিরোধী বলে পরিচিত কোয়াড জোটে বাংলাদেশকে অনেক আগ থেকে টানার চেষ্টা করছে সদস্য দেশগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো ইন্দো-প্যাসিফিকে বাংলাদেশকে অংশীদার মনে করে। সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব জিডিআইয়ে বাংলাদেশকে যুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বেইজিং।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, জিডিআই নিয়ে বাংলাদেশ একটু ধীরে চলো নীতিতে চলছে। কিন্তু চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যুক্ত আছি, এটা তো জিডিআইয়ের বাইরে নয়। জিডিআইয়ে হয়ত আমরা এমনি যুক্ত থাকব, কিন্তু কোনো চুক্তি বা এমওইউ করব না। তবে এটা নিয়ে যে প্রধানমন্ত্রীর আলাপ-আলোচনা হবে না, সেটা বলা ঠিক হবে না। আলাপ-আলোচনা হবে। জিডিআইয়ে আমাদের যেতে বাধা দেখছি না। হয়ত চীনের গেøাবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভে (জিএসআই) আমরা যাব না।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের যোগাযোগ খাতে সড়ক ও রেলের বেশ কিছু নতুন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা পেতে চায় বাংলাদেশ। এরই মধ্যে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল চালুর সুফল পেতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। কিন্তু এমআরটি-২ তথা গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত তথা মেট্রোরেল লাইনের জন্য কোনো ঋণ এখনো পাওয়া যায়নি। এ প্রকল্পের জন্য চীনের ঋণ পেতে আগ্রহী সড়ক মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সড়ক ও রেল মিলিয়ে মোট ৯টি প্রকল্পের তালিকা তাদের কাছে এসেছে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য চীন অর্থায়ন করবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে চীনের কাছ থেকে। এর বাইরে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজনকেও গত সাত বছরে নিজেদের ভূমিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বরবারই চীনের সহযোগিতা চেয়ে আসছে। চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মৌখিক সমর্থন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নানা প্রক্রিয়া অতিক্রম করেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, এই সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। পাশাপাশি আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘোষণাও। তার মতে, ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে শি জিনপিং ও শেখ হাসিনার বৈঠকে। এর মধ্যে রয়েছে- মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, সামরিক সহযোগিতা ও ব্রিকসে ঢুকতে চীনের সমর্থন। এছাড়া বেশ কিছু এমওইউ সই করার বিষয় আছে। কিছু ঘোষণাও আসবে। এখন এটার চূড়ান্ত কাজগুলো চলছে। চীনাদের সঙ্গেও আমাদের কথাবার্তা চলছে। আমরা আশা করছি, এটা একটা ফলপ্রসূ সফর হবে। তবে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কোনো আলোচনা হবে কিনা তা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

এদিকে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলেছে। এর মধ্যেই সীমান্তসহ নানা ইস্যুতে চীন-ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা ও প্রতিদ্ব›িদ্বতা বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। সদ্য শেষ হওয়া জুনেই প্রধানমন্ত্রীর দুই দফা ভারত সফর ঘিরেও উঠে এসেছে এমন প্রসঙ্গ। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সম্প্রতি এক নিবন্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকলে তা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সফল ভারত সফরের পর বিএনপির নানা মন্তব্য হালে পানি পায়নি, এখন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর বিএনপি কি বলবে সেটিই দেখার বিষয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, আমাদের সঙ্গে যেমন ভারতের চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি চীনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক। আমাদের সঙ্গে রাশিয়ার যেমন চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সুসম্পর্ক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App