×

প্রথম পাতা

ডিক্যাব সংলাপে রাষ্ট্রদূত

তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবে চীন

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবে চীন

কাগজ প্রতিবেদক : তিস্তা প্রকল্পের কাজ কোন দেশ পাচ্ছে, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে বলে জানালেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বেইজিং ঢাকার যে কোনো সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাবের এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি (তিস্তা) বাংলাদেশের নদী। সুতরাং এই নদী পাড়ে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। চীন এ ধরনের যে কোনো সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে। তিস্তা নদীকে ঘিরে নেয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যৌথ সমীক্ষা করেছে চীন। তবে এখন ভারতের আর্থিক সহায়তা প্রস্তাবে বেশি আগ্রহ বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফর শেষে সেই বার্তাই দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বেইজিং সফর সামনে রেখে আবারো আলোচনায় এসেছে তিস্তা প্রকল্প। আগামী ৮ জুলাই চারদিনের সফরে বেইজিং যাচ্ছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। তবে আলোচ্যসূচিতে তিস্তা থাকছে কিনা, তা স্পষ্ট করেনি ঢাকা। তিস্তা প্রকল্পে দিল্লির যুক্ত হওয়াকে বেইজিং কীভাবে দেখছে, সেই প্রশ্ন করা হলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তাব দিয়েছে চীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ করেছি। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কে করবে, তা বাংলাদেশ সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চাই, এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। কারণ এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্যই প্রয়োজন। প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাই এ-সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবে চীন।

ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন আগ্রহী কিনা- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, চীন প্রস্তুত। তবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশকেই। বাংলাদেশের রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার আগ্রহের কথাও জানান চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় নতুন ধরনের প্রস্তাব নিয়ে দুদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এটি বেইজিংয়ের জন্য প্রথম। তবে আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চাই। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে এ বিষয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েছে, যা উন্নতিকে ত্বরান্বিত করেছে। চীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর আগামী পাঁচ বছর বা তারপরেও দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করার পথ সুদৃঢ় হবে। এ সফরে দুদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। দুই দেশের মধ্যে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার সম্মান করা হয়। চীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করেছি, যার বিস্তারিত যথা সময়ে ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে কয়টি দলিল সই হতে পারে এ প্রশ্নের জাবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, এ সম্পর্কে আমি বলার উপযুক্ত নই। তবে, আমি বলতে পারি, এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্প, চীনা বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও দুদেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে চীন সব পক্ষকে একত্রিত করে ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক গত বছর সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে সংঘর্ষ শুরু হলে এ নিয়ে অগ্রগতি স্থগিত হয়ে যায়। রাখাইনে চীনের একার পক্ষে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। আশিয়ানসহ সবাইকে কাজ করতে হবে।

ব্রিকসে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিকসে সদস্য হতে চীন সহযোগিতা করবে। শিগগিরই বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হবে বলে আশা করি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ডিক্যাব প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App