×

প্রথম পাতা

মতিউর পরিবারের জমি ফ্ল্যাট প্লট ও ভবন জব্দ

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মতিউর পরিবারের জমি  ফ্ল্যাট প্লট ও ভবন জব্দ

কাগজ প্রতিবেদক : কুরবানির ঈদে ছেলের ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব রোর্ডের সদস্য মো. মতিউর রহমান ও তার পরিবারের নামে থাকা ফ্ল্যাট, প্লট, বহুতল ভবনসহ ও ৬১৭ কাঠা জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে দুদক থেকে অনুসন্ধান কমিটির টিম লিডার উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন ক্রোকের জন্য আদালতে মতিউর পরিবারের স্থাবর সম্পতির বিবরণী দাখিল করেছেন। বিবরণীতে দেখা যায়, মতিউরের নামে তার নিজ জন্মস্থান বরিশালের মূলাদিতে ১১৪ শতক বা ৬৯ কাঠা জমি রয়েছে। এছাড়া তার প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজের নামে ওই উপজেলায় ২০০০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫২২ দশমিক ৫২ শতক বা ৩১৬ কাঠা জমি কেনা হয়েছে। মতিউরের ছেলে, ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে নরসিংদীর রায়পুরায় ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৭৫ দশমিক ৮৭৫ শতক বা ১৬৬ কাঠা জমি কেনা হয়েছে। এছাড়া মতিউরের মেয়ে ফারজানা রহমান ঈপ্সিতার নামে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০৬ দশমিক ৫৬ শতক বা ৬৪ কাঠা জমি কেনা হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৬১৭ কাঠা বা ৩০ দশমিক ৮৫ বিঘা জমি এ পরিবারের নামে রয়েছে। এছাড়া মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিভলীর নামে ধানমন্ডির ঝিগাতলার ৮ নম্বর রোডে একটি ফ্ল্যাট ও বসুন্ধরার এন ব্লকে ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে বসুন্ধরার আকবর রোডের ডি ব্লকে ২৫৪০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও তার মেয়ে ঈপ্সিতার নামে বসুন্ধরার ১ নম্বর রোডের ডি ব্লকে ৫ কাঠা প্লটের ওপর বহুতল ভবন রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আদালতকে জানান, মতিউর রহমান দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। যা করতে পারলে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা করা, আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় হতে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ

হবে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে মতিউরসহ তার পরিবারের স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক করা একান্ত প্রয়োজন। আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৪ জুন একই আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মতিউর, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও তাদের পুত্র আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন। এছাড়া ছাগলকাণ্ডে দেশব্যাপী সমালোচনায় গত ২৩ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মো. মতিউর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব রোর্ডের সদস্য মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৪, ২০০৮, ২০১৩ ও ২০২১ সালে মোট ৪ বার অনুসন্ধান করে দুদক। প্রতিবারই অনুসন্ধান পর্যায় থেকে শেষ হয়েছে কার্যক্রম। তবে এবার ছাগলকাণ্ডে দেশব্যাপী আলোচনায় আসার পর পঞ্চমবারের মতো মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুদক। দুদক থেকে অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনকে টিম লিডার করে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ও উপসহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহারকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App