×

প্রথম পাতা

ভ্যাট কমিশনার এনামুলের সম্পদও ক্রোক

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাট কমিশনার এনামুলের  সম্পদও ক্রোক

কাগজ প্রতিবেদক : প্রায় ১০ কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে জব্দের আবেদনে এনামুল হকের স্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন। এতে দেখা যায়, এনামুলের ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে গুলশানের জোয়ার সাহারা মৌজায় তিন কাঠা করে দুটি প্লট। যার দলিল মূল্য মাত্র ৬১ হাজার টাকা করে দেখানো হয়েছে, যদিও বাস্তবমূল্য অনেক বেশি। এছাড়া এই দুটি প্লটে ৯ তলা ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। খিলক্ষেতে ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ৩৩ শতক জমি, কাকরাইলের আইরিশ নূরজাহান টাওয়ারে কমন স্পেসসহ ১ হাজার ১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, একই ভবনে কারপার্কিং স্পেসসহ ১ হাজার ৮৩৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট যার মূল্য ৫১ লাখ ২৯০০ হাজার টাকা। এছাড়া কাকরাইলে ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট ও ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটসহ কারপার্কিং যার মূল্য ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাজীপুরে ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকার পাঁচ কাঠা জমি। মোহাম্মদপুরে তিনটি বাণিজ্যিক ভবনে চার হাজার বর্গফুটের তিনটি স্পেস, যার প্রতিটির মূল্য ৭১ লাখ ৩৫ হাজার করে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে সাড়া সন্ধানী লাইফ টাওয়ারে ১০ হাজার ৯৬৫ বর্গফুটের স্পেস রয়েছে, যার মূল্য দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া গুলশানে ৭২ লাখ টাকার ২ হাজার ৪২৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং বাড্ডায় চার কাঠা নাল জমি, যার মূল্য ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। দুদকের এ সম্পদ বিবরণীতে দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে। বাস্তবিকভাবে এসব সম্পদের মূল্য কয়েকগুণ।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার (আসামি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, আসামি তার মালিকানাধীন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে এই মামলার ধারাবাহিকতায় আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাসহ সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। তাই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুবিধার্থে তথা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা একান্ত প্রয়োজন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। দুদকের অনুসন্ধানে ৬৪টি স্থানে এনামুলের ফ্ল্যাট ও জমি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। যার মূল্য ২১ কোটি ৫২ লাখ ৫৩ হাজার ১২ টাকা দেখানো হলেও বর্তমান বাজারমূল্য কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া শেয়ারবাজার, মৎস্য প্রকল্প, জীবন বিমা, সঞ্চয়পত্র এবং স্বর্ণালংকারে তার অঢেল বিনিয়োগ রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App